বানারীপাড়ায় পৌণে এক ঘন্টা পূর্বে সন্তান প্রসব করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ

আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২১
0

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি॥ বরিশালের বানারীপাড়ায় চাখারে সন্তান জন্ম দেওয়ার পৌনে এক ঘণ্টার মাথায় কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা দিলো দোলা আক্তার নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। বালিকা বধু দোলা আক্তার খলিশাকোঠা গ্রামের দুলাল সরদারের মেয়ে। রোববার (২১ নভেম্বর) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ছেলেসন্তান জন্ম দেয় ওই পরীক্ষার্থী। পরে সে নবজাতককে হাসপাতালে স্বজনদের কাছে রেখে সকাল ১০টায় চাখার ফজলুল হক ইনস্টিটিউশন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। লেখাপড়ার প্রতি দোলা আক্তারের প্রবল আগ্রহ দেখে প্রশংসা করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকরা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে বানারীপাড়ার খলিশাকোঠা গ্রামের মো. ইউসুফ আলী খানের ছেলে আকাশ খানের (দুলাল) সঙ্গে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় দোলার। আকাশ খান বর্তমানে ঢাকায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। দোলা শ্বশুরবাড়িতে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। সে চাখার ওয়াজেদ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। দোলার শ্বশুর ইউসুফ আলী খান বলেন, দোলা সন্তানসম্ভবা ছিল। অন্যদিকে তার এসএসসি পরীক্ষাও চলছিল। রোববার তার শেষ পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে তার প্রসব বেদনা শুরু হয়। এরপর দোলাকে তাৎক্ষনিক চাখার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকাল সোয়া ৯টার দিকে ফুটফুটে ছেলেসন্তান জন্ম দেয় সে। হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাসিমা বেগম বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার কিছুক্ষণ পর দোলার ছেলেসন্তান জন্ম হয়। সে স্বাভাবিকভাবেই সন্তান প্রসব করেছে। তার সন্তান সুস্থ আছে। তবে ডেলিভারির কারণে দোলা শারীরিকভাবে অনেক দুর্বল ছিল। এরপরও সে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আকুতি করছিল। দোলা অসুস্থ থাকায় তার স্বজনরা পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। এক পর্যায়ে সে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকদের জানায়। এরপর দোলা পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। চাখার ফজলুল ইনস্টিটিউশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব মো. জিয়াউল হাসান বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে দোলা সঠিক সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয় এবং পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পরীক্ষা কেমন হয়েছে। সে বলেছে, তার পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। দোলার বিদ্যাপীঠ চাখার ওয়াজেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আজিম বলেন, দোলা মেধাবী ছাত্রী। তার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে আমি অভিভূত। সন্তান প্রসবের পর তার হাসপাতালে থাকার কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় ঠিক সময়ে দোলা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। দোলার জন্য গর্ব হচ্ছে। দোলার বাবা দুলাল সরদার বলেন, শিশুকাল থেকেই পড়াশোনার প্রতি দোলার খুব ঝোঁক। সে প্রাইভেট বা কোচিং না করেও ক্লাসে মেধা তালিকায় থাকতো। তবে সংসারে অসচ্ছলতার কারণে ও ভালো পাত্র পাওয়ায় নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় দোলার বিয়ে দেওয়া হয়। এখন সে শ্বশুরবাড়িতে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। দোলার বাল্য বিয়ের ব্যপারে পাশ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার দাসের হাট (হরিদ্রাপুর) গ্রামের দোলার শ্বশুর মোঃ ইউসুফ আলী খান এবং পিতা দুলাল সরদার বলেন, দুই পক্ষের সম্মতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে নবজাতক শিশু ও শিক্ষার্থী মা উভয়ই সুস্থ আছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ###

রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া
তারিখ.২২-১১-২০২১ইং