বোন পারলে ক্ষমা করে দিস

আপডেট: জুন ২৯, ২০২০
0

মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা
আজ সকাল থেকেই মনটা খুবই খারাপ।একটির পর একটি শোক সংবাদ লিখেই চলেছি।মনে হয় পৃথিবীতে সুসংবাদ বলে কোনো সংবাদই নেই।প্রথমেই সকালে শুনতে পেলাম সদরঘাট শ্যামপুরে এক লঞ্চডুবিতে লাশের উপরে লাশ।অন্যদিকে,মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ।এর রেশ কাটতে না কাটতেই শুনলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের মৃত্যুর সংবাদ।তারপরেই খবর এল সাবেক এক সংসদ সদস্য মজলিস ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ।চোখ ফেরাতে না ফেরাতেই আবার চোখের সামনে ভেসে আসল বীরমুক্তিযোদ্ধা গেদু চাচার শোক সংবাদ।হিসেব টা মিলাতে পারছিলাম না,লকডাউনের কিছুদিন আগেও গেদু চাচা ও মজলিস ভাইয়ের সাথে দুটো সভায় বক্তব্য রেখেছিলাম।একজন রাজনীতিবিদ, অন্যজন সাংবাদিক। দুটো মানুষের মধ্যেই দেশপ্রেমের কোনো অভাব ছিল না।
এইসব কথা ভাবতে ভাবতেই প্রিয় সাংবাদিক দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক ফোজিত শেখ বাবুর ফেসবুক ওয়ালে দেখতে পেলাম “একটি অকাল মৃত্যু “।যে মৃত্যু সংবাদটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না।চোখের সামনে ভেসে উঠল অনেকগুলো স্মৃতি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সকলের পরিচিত মুখ দৈনিক ইত্তেফাকের ফটো সাংবাদিক,নারী সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য শেখ রেহেনা।রেহেনা সবার অত্যন্ত প্রিয় মুখ ছিল।তার বড় ভাই বাবু জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অনেক খ্যাতি অর্জন করেছেন।ফোজিত শেখ বাবু যে পত্রিকায় চাকরি করতো আলোকিত বাংলাদেশ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বোনের পাশে অর্থ নিয়ে সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি।একজন সৎ,সাহসী, সাংবাদিক বাবুর এই যন্ত্রণা ও দুঃখ কোনোদিন ও শেষ হবে না।রেহেনার বোনের স্বামী গোলাম মোস্তফা ও ফোকাস বাংলার ফটো সাংবাদিক।
আমি একজন রাজনৈতিক ও মানবাধিকার কর্মী হিসেবে প্রেস ক্লাবে ছিল প্রতিদিনেরই যাতায়াত। বিগত অর্ধ যুগে ছোট বোন রেহেনা ও মোস্তফার ক্যামেরায় আমার অনুষ্ঠানের অজস্র ছবি ধারণ করেছে।আর মেসেনঞ্জার ও ই-মেইল এ সে ছবিগুলো না চাইতেই পাঠিয়ে দিত।বাবু ঢাকার মুগদায় বাস করত পেশাগত কারণে। বাবুর সাথে থাকত আমার প্রিয় আর একজন ফটো সাংবাদিক বাদল।সবার সাথে এত বেশি ঘনিষ্ঠতা ছিল মনে হত আমি তাদের পরিবারেরই একজন।ছোট বোন রেহেনা তার সন্তানদের নিয়ে মাঝে মাঝে প্রেস ক্লাবে আসত।তার মেয়েকে দেখিয়ে বলত ভাই দোয়া করবেন।ভবিষ্যতে আর কোনোদিন রেহেনা প্রেসক্লাবে তার সন্তানদের নিয়ে আসবে না।রেহেনা জীবনে অনেক দুর্লভ ছবি তুলেছিল।অনেক গুনী মানুষের সাথে গড়ে উঠেছিল শ্রদ্ধা,স্নেহ ও ভালোবাসার সম্পর্ক।করোনার আগেই রেহেনা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।কয়েকদফা কেমোথেরাপি ও দেয়া হয়েছিল।গতকাল রেহেনার শরীরের অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায়,তাকে রক্ত দিতে হয়েছিল।বাবু ভাইয়ের আমন্ত্রণে দুজন রক্ত ও দিয়েছিল।হঠাৎ শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় আইসিইউতে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল।সবাইকে ছুটি দিয়ে আজ সে চিরদিনের জন্য চলে গেল।দেখা হলে আর কেউ বলবে না ভাইয়া কেমন আছেন?সহজ-সরল, সাদামনের মানুষ ছিল রেহেনা।সবাইকে খুব সহজেই ভালোবাসতে পারত।করোনার কারণে দীর্ঘদিন ঢাকার বাইরে অবস্থান করার কারণে একটি বার ও কাছে গিয়ে প্রিয় বোনটির মুখ দেখতে পারিনি।তবে প্রতি মুহূর্তে খবর বাবুর ফেসবুক ওয়ালে আপডেট পেতাম।শেষ খবরটি হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটালো।
বোন পারলে ক্ষমা করে দিস।আল্লাহ রেহেনাকে জান্নাত দান করুক।

LEAVE A REPLY