মার্কিন নির্বাচনের ভোট জালিয়াতির গুজব যেভাবে ছড়ালো

আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০২০
0

ইন্টারনেটে দেয়া একটি বিভ্রান্তিকর পোস্ট কীভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্টে গিয়ে পৌঁছল?

বুধবার আমেরিকান সময় সকালের দিকে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করে ভুল একটি বার্তা পোস্ট করা হয়েছিল মিশিগান শহরে।

কয়েক ঘন্টার মধ্যে সেই মেসেজ ভাইরাল হয়ে যায় এবং পৌঁছে যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্টের ফিডে। ঘটনা ঘটেছিল এভাবে।

মিশিগানে ভোটের ম্যাপ
মিশিগান একটি ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য। সেখানে ভোটদান সম্পর্কিত একটি তথ্য বিবরণী ম্যাপে ভুল করে দেখানো হয় যে জো বাইডেনের পক্ষে এক লাখ ৩৮ হাজার ভোট যোগ হয়েছে। কিন্তু তাতে দেখা যায়, ওই একই সময়ের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঝুলিতে একটিও বাড়তি ভোট যোগ হয়নি।

যে স্ক্রিনশটটি পোস্ট করা হয়েছিল, সেটি নির্বাচনী তথ্য সংক্রান্ত একটি সংস্থা থেকেই এসেছিল, কিন্তু তাদের তথ্য ছিল ভুল। সোজা কথায়, তথ্য তোলার সময় তাতে ভুল হয়েছিল।

নির্বাচনী তথ্য বিশ্লেষণের কাজ করে ডিসিশন ডেস্ক নামে যে সংস্থাটি ওই ম্যাপ পোস্ট করেছিল, তারা বলছে, “এটা সরাসরি একটা ভুল ছিল। ওই রাজ্য থেকে যে নথিতে ভোটের তথ্য পাঠানো হয়েছিল সেটিই আমরা আমাদের সিস্টেমে উঠিয়েছিলাম। পরে মিশিগান কর্তৃপক্ষের ভুলটি চোখে পড়ে এবং তারা নতুন করে গণনার আপডেট পাঠায়।”

ওই ভুল তারা দ্রুত সংশোধন করলেও সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য সম্বলিত ম্যাপটি ছড়িয়ে পড়তে সময় নেয়নি।

এমনিতেই ভিত্তিহীন ভোট জালিয়াতির খবর নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তখন সোরগোল উঠতে শুরু করেছে। তাতে বিরাট ইন্ধন জোগায় ভোটের এই ভুল ম্যাপটি।

বিবিসি তার অনুসন্ধানে দেখেছে, কোনরকম ভোট জালিয়াতি হয়েছে এমন তথ্য তুলে ধরতে এই তথ্য বিবরণী সম্বলিত ম্যাপটি ব্যবহার করা হয়েছে বুধবার ৪ নভেম্বর জিএমটি সময় সকাল ১০:৩৭এ। তার আগে এই ম্যাপ তোলা হয়েছে এমন কোন পোস্ট বিবিসি পায়নি।

এইট কুন নামে যে ওয়েবসাইট এই ম্যাপটি ওই সময় পোস্ট করেছিল সেটি কট্টর ডানপন্থী ভাষা এবং মতামতে ভর্তি একটি ওয়েবসাইট। কট্টর দক্ষিণপন্থী এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্বে উদ্বুদ্ধ গোষ্ঠী কিউঅ্যানোনের সদস্যদের কাছে এই ওয়েবসাইট খুবই জনপ্রিয়।

কিউঅ্যানোন বিশ্বাস করে শয়তান চক্রের সদস্য উপর মহলের কিছু মানুষ যারা শিশু যৌন নিপীড়নকারী তাদের বিরুদ্ধে গোপন যুদ্ধ চালাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর প্রায় আধ ঘন্টা পর জিএমটি ১০:৫৬ য়ের মধ্যে এই ম্যাপটি টুইটারে প্রথম শেয়ার করা হয়। যে অ্যাকাউন্ট থেকে এটি পোস্ট করা হয় তাতে পেপে নামে একটি ব্যাঙের মুখের ছবি দেয়া ছিল। এটি কট্টর ডানপন্থীদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারের জন্য জনপ্রিয় একটি প্রতীক। এই পোস্টে বেশ জোরের সাথে ইঙ্গিত করা হয় যে ভোট নিয়ে একধরনের জালিয়াতি বা চালাকি করা হচ্ছে, সেখানে তথ্য ভুল হওয়া নিয়ে কোন কথাই বলা হয়নি।

এর অল্পক্ষণ পর থেকেই নাম-পরিচয়বিহীন বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে এই ম্যাপের ছবি ছড়ানো শুরু হয়ে যায়। এর শেয়ারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। একই সময় দক্ষিণপন্থীদের কাছে জনপ্রিয় বেশ কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই ছবি শেয়ার করা শুরু হয়।

জিএমটি দুপুর দুটোর অল্প পরেই রক্ষণশীল রিপাবলিকান ম্যাট ম্যাকুইয়াক এটি রি-টুইট করেন, যেটি তার ৩৬ হাজার অনুসারী পরে শেয়ার করেন। ম্যাকুইয়াক পরে তার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এটি মুছে দেন এবং দুঃখপ্রকাশ করেন। এই ভুল ম্যাপের স্ক্রিনশট নিয়ে ডানপন্থীদের প্রভাবিত করার মত অনেক ওয়েবসাইটে এটি শেয়ার করা হয়।

ম্যাকুইয়াক পরে বলেন, “আমি জানি না এই এইট কুন কারা”। তিনি বলেন তিনি রক্ষণশীলদের একটি সংবাদ ওয়েবসাইটের অ্যাকাউন্ট, দ্য ফেডারেলিস্ট-এ এই ম্যাপটি দেখেছিলেন।

“আমার এটাকে একটা অসঙ্গতি মনে হয়েছিল। আমি কখনও এমন তথ্য দেখিনি যে গণনায় সব ফল ১০০ ভাগ একজন প্রার্থীর পক্ষে গেছে,” টুইটারে লেখেন ম্যাকুইয়াক। “তবে যখনই জানলাম একটি কাউন্টি তাদের ফলাফলের তথ্য সংশোধন করে দিয়েছে, তখন সাথে সাথে আমিও তা সংশোধন করে দিই।”

কিন্তু তাতে এই ম্যাপটি ভাইরাল হওয়া ঠেকানো যায়নি। ততক্ষণে এই ম্যাপ ভাইরাসের মত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। রক্ষণশীল একজন লেখক ম্যাট ওয়ালশ ম্যাকুইয়াকের প্রথম টুইটটি তার ৫ লাখের বেশি অনুসারীর সাথে শেয়ার করেন।

বুধবার গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়ালশের টুইটটি শেয়ার করতে শুরু করেন। তিনি লেখেন, “এসব কী ঘটছে?”

LEAVE A REPLY