ম্যাডাম জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা বনাম প্রধানমন্ত্রীর সদইচ্ছা

আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২১
0

তৈমূর আলম খন্দকার

৭৭ বৎসর বয়সী, একজন অসুস্থনারী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুমুর্স অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তার বিরুদ্ধে ৩০টির বেশী রাজনৈতিক মামলা হয়েছে যার মধ্যে দুটিতে সাজা প্রাপ্ত, যার একটিতে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত কর্তৃক প্রদত্ব সাজা হাই কোর্ট আপীলে ৫ বৎসর বৃদ্ধি করে ১০ বৎসর নির্ধারণ করেছেন। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২৬ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, “দন্ডিত ব্যক্তির আপীল সাপেক্ষে আদালত লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন যে, আপীলকৃত দন্ড বা আদেশ কার্যকরী করন স্থগিত থাকিবে এবং আসামী আটক থাকিলে আরও নির্দেশ দিতে পারিবেন যে তাহাকে জামিনে বা তাহার নিজের দেয়া বন্ডে মুক্তি দিতে পারিবেন।” হাই কোর্টে আপীল চলাকালে ফৌজদারী কার্যবিধিতে ৪২৬ ধারায় প্রদত্ব সুযোগ বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্যে জুটে নাই। সে সুযোগ তিনি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন এ্যাপিলেট ডিভিশন থেকেও পান নাই। ভাগ্যোর নির্মম পরিহাস কত প্রকার ও কি কি হতে পারে, জীবন সায়াগ্নে বেগম জিয়ার নিয়তি বনাম প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) কৌশল দেশবাসী উপলব্দি করছে।

উচ্চ আদালত কর্তৃক জামিন নিতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন কারাবন্দী ছিলেন, অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাকে সরকারী হাসপাতালে ভর্তি থাকাবস্থায় পরিবারের আবেদনক্রমে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারা মোতাবেক প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাহী আদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশে না যাওয়ার শর্ত সাপেক্ষে দন্ডাদেশ স্থগিত করে নিজ বাড়ীতে থাকতে সূযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া সংকটাপূর্ণ অবস্থায় আছেন, মেডিকেল বোর্ড উন্নতমানের চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য সুপারিশ করেছে। সরকার দৃঢ়তার সাথে বলছে যে, বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার প্রার্থনা যেহেতু ইতোপূর্বে সরকার নামঞ্জুর করে নিষ্পত্তি করেছে সেহেতু এ বিষয়টি জব-ড়ঢ়বহ করে পুন: বিবেচনা করার আইনগত কোন বিধান নাই (সূত্র: জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য)। আইনমন্ত্রীর বক্তব্য সঠিক বলে আমি মনে করি না। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, “কোন ব্যক্তি কোন অপরাধের জন্য দন্ডিত হইলে সরকার যে কোন সময় বিনা শর্তে বা দন্ডিত যাহা মানিয়া নেয় সেইরূপ শর্তে যে দন্ডে সে দন্ডিত হইয়াছে, সেই দন্ডের কার্যকরীকরণ স্থগিত রাখিতে বা সম্পূর্ণ দন্ড বা দন্ডের অংশ বিশেষ মওকুফ করিতে পারিবেন।” এছাড়াও উক্ত ৪০১ ধারায় উপ-ধারা ৬ এ উল্লেখ রয়েছে যে, “সরকার সাধারণ বিধিমালা বা বিশেষ আদেশ দ্বারা দন্ড স্থগিত রাখা এবং আবেদনপত্র স্থগিত রাখা এবং আবেদনপত্র দাখিল ও বিবেচনার শর্ত সম্মন্ধে নির্দেশ দিতে পারিবেন।”

উক্ত আইনে শর্ত মওকুফ করা বা শর্ত শিথীল করার সম্পূর্ণ ক্ষমতা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ অর্থাৎ সরকারের নিকট রয়েছে। আইনমন্ত্রী উক্ত আইন যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সদইচ্ছার উপর নির্ভর করে বেগম জিয়ার উন্নতমানের চিকিৎসার প্রশ্নে আইন প্রয়োগের বিষয়াদি।

সরকারী দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে চিকিৎসা বর্তমানে অনেক উন্নতমানের। যদি তাই হয় তবে আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী সহ ধনী শ্রেণী সকলেই চিকিৎসা বা শরীর চেক-আপ করানোর জন্য অহরহ বিদেশে যাচ্ছেন কেন? যাদের অর্থ-কড়ি নাই তারাওতো শেষ সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। বিদেশে বেগম জিয়ার চিকিৎসার আবেদনটি কি বিবেচনা যোগ্য নয়? চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রধান কারন (১) পরীক্ষা নিরীক্ষার নির্ভুল ফলাফল এবং (২) দেশের অভ্যন্তরে চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর দেশবাসী আস্থা রাখতে পারছে না।

সরকার বলতে চায় যে, নিষ্পত্তিকৃত বিষয়টি পুন: বিবেচনা করার আইনী বিধান নাই। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় জামিনের অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করার বিধান রাখা হয়েছে। উক্ত ধারায় শর্ত দেয়া হয়েছে যে, “আদালত এই দোষে (জামিনের অযোগ্য অপরাধ) অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি ষোল বৎসরের নিম্মবয়স্ক বা স্ত্রী লোক বা পীড়িত অক্ষম হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারিবেন। মান-হানির অভিযোগ অভিযুক্ত হয়ে জামিনযোগ্য ধারায় জামিন নিতে বেগম জিয়াকে সুপ্রীম কোর্টের এ্যাপিলেট ডিভিশনের শরনাপন্ন হতে হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে অহরহ জামিনযোগ্য ধারায় জামিন দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ সে আইন বেগম জিয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হয় নাই। তিনি অসুস্থ্য, নারী এবং শারিরিকভাবে কি অক্ষম নহেন? আইন কি তার প্রশ্নে স্বাভাবিক গতি পেয়েছে?

সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ মোতাবেক হাই কোর্ট বিভাগের রায়, ডেক্রী, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানী ও তাহা নিষ্পত্তির এখতিয়ার আপীল বিভাগের রয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ মোতাবেক আপীল বিভাগ নিজ প্রদত্ব রায় বা আদেশ পুন: বিবেচনা করার ক্ষমতা রয়েছে। এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে যে, সরকার সংশ্লিষ্ট আইনের ৪০১ ধারায় প্রদত্ব আদেশ কেন পুনঃ বিবেচনা করতে পারবে না? ফলে ইহাই প্রতিয়মান হয় যে, প্রধানমন্ত্রীর সদইচ্ছাই এখন মূখ্য বিষয়।

সরকারের যদি সদ ইচ্ছার ঘাটতি না হয় তবে বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আইনগত বহু রাস্তা খোলা আছে। আইনের নিকট মানবতা পরাস্ত হতে পারে না। ঞযব চৎড়নধঃরড়হ ড়ভ ড়ভভবহফবৎং ঙৎফরহধধহপব’ ১৯৬০ এবং ঞযব চৎড়নধঃরড়হ ড়ভ ড়ভভবহফবৎং জঁষবং’ ১৯৭৫ মোতাবেক সরকার যে কোন সময় যে কোন সাজা প্রাপ্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়ে স্বাচ্ছন্ধে চলাফেরার সূযোগ দিতে পারে। অনুরূপ আইন পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রেই রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার সম্পর্কে সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, “কোন অঅদালত, ট্রাইবুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ প্রদত্ব করিবার কোন দন্ডের মার্জনা, বিলম্বনা ও বিরাম মঞ্জুর করিবার অধিকার এবং যে কোন দন্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।” কিন্তু সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ মোতাবেক রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাকে সম্পূর্ণভাবে খর্ব করা হয়েছে। উক্ত অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, “এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুশারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন । তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অদৌ কোন পরামর্শ দান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।” সংবিধানের অত্র অনুচ্ছেদ মোতাবেক রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কোন কারনেই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতীত ৪৯ অনুচ্ছেদে ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে না। ফলে ঘুরে ফিরে সমস্ত ক্ষমতাই প্রধানমন্ত্রীর উপরে বর্তায়। এ জন্যই সরকারী দল প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে সম্বোধন করে।

প্রধানমন্ত্রী, বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে আদেশ দিতে কেন অনীহা বা বিলম্ব করছেন, এ বিষয়টি নিয়েও পাবলিক পারশেপশনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পাবলিক মনে করে যে, (১) বিদেশে উন্নতমানের পরীক্ষা নিরীক্ষায় হয়তো এ মর্মে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে যে, কারারুদ্ধ অবস্থায় সরকার বেগম জিয়াকে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান না করে অপচিকিৎসা দেয়া হয়েছে, (২) সরকার হয়তো মনে করতে পারে যে, বেগম জিয়া এ দুনিয়া হতে যত তাড়াতাড়ি বিদায় নিবেন সরকারের জন্য ততই মঙ্গল, (৩) সরকার প্রধান হয়তো ক্ষোভ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে এখন যা হচ্ছে জাতির জন্য সৃষ্টি হবে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত।

১/১১ সেনা সমর্থিত সরকারের সময় দুই প্রধানমন্ত্রীর সাথেই দীর্ঘ দিন কারাবন্দী ছিলাম। আমার যতটুকু মনে পড়ে যে, প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) কারামুক্ত হয়ে সে সময় বলে ছিলেন যে, তাকে স্লো পয়েজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য মোতাবেক বুঝা যায় যে, আমলাতান্ত্রিক এই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য স্লো পয়েজনের একটি গোপন পদ্ধতি কারাগার সংস্কৃতিতে বিদ্যমান রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন কারাবন্দী থাকাবস্থায় তাকেও স্লো পয়েজন করা হয়েছে কিনা তা অবশ্যই সরকার নিয়ন্ত্রন মুক্ত উন্নতমানের হাসপাতালে নিবির পর্যবেক্ষন ও পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং এ বিষয়টির কারনেও ম্যাডাম জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে বলে জনগণের মধ্যে একটি ধারনা ধীরে ধীরে বদ্ধমুল হচ্ছে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীর স্বাস্থ্যোর চিকিৎসা করার দায়িত্ব সরকারের। অসুস্থ্য অবস্থায় কোন ফাসির আসামীকে ফাসির কাষ্টে ঝুলানোর নিয়ম আইনে নাই। কারাগারে আভ্যন্তরীন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কারাকর্তৃপক্ষ কোন বন্দীকে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট ছাড়া শাস্তি কার্যকর করতে পারবে না। জেল কোডের ৫০ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে,

“(১) শাস্তিমূলক খাবার একক, বা যৌথভাবে, কিংবা বেত্রাঘাত, কিংবা ৪৬ ধারার (২) উপ-ধারার অধীন শ্রমের পরিবর্তনের কোন শাস্তি সেই পর্যন্ত আরোপ করা যাইবে না, যেই পর্যন্ত মেডিকেল অফিসার যে বন্দীকে শাস্তি দেওয়া হইবে তাহাকে পরীক্ষা না করেন, যিনি, যদি মনে করেন যে বন্দী উক্ত শাস্তি গ্রহণের জন্য উপর্যুক্ত, তাহা হইলে ১২ ধারায় বর্ণিত শাস্তি বইয়ের যথোপযুক্ত কলামে সেই অনুযায়ী সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন।

(২) যদি তিনি মনে করেন যে, বন্দী শাস্তি গ্রহণের জন্য অনুপযুক্ত, তাহা হইলে তিনি যথোপযুক্ত রেকর্ডে তাহার মতামত লিপিবদ্ধ করিবেন এবং বর্ণনা করিবেন যে, বন্দীকের যে ধরনের শাস্তি প্রদান করা হইয়াছে তাহার জন্য সে একেবারেই অনুপযুক্ত, বা তিনি কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করেন কিনা।

(৩) শেষের ক্ষেত্রে তিনি বর্ণনা করিবেন যে, কি ধরণের শাস্তি বন্দী কোন প্রকার শারীরিক ক্ষতি ছাড়া গ্রহণ করিতে পারিবে।”

সুপ্রীম কোর্টের আপীল ও হাই কোর্ট বিভাগ অসুস্থতার গ্রাউন্ডে যাবৎজীবন সাজার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং সাজাপ্রাপ্ত অনেক বন্দীকে জামিন দিয়েছেন, দায়িত্ব নিয়েই একথা বলছি। রাজনৈতিক কারণে রুজুকৃত মামলায় রাজনৈতিক সাজা হওয়ার কারণেই ম্যাডাম জিয়া আইনী অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। জীবন সায়ান্নে আইন আদালত তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ উন্নতমানের বৈদেশিক চিকিৎসা এখন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর সদইচ্ছার উপরে, আইনী দোহাই একটি বাতুলতা মাত্র।

লেখক

রাজনীতিক, কলামিষ্ট ও আইনজীবি (এ্যাপিলেট ডিভিশন)

মোবাঃ ০১৭১১-৫৬১৪৫৬

E-mail: taimuralamkhandaker@gmail.com