রাষ্ট্র প্রতিবন্ধি হয়ে গেছে: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২২
0

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে সমস্যা ব্যক্তি প্রতিবন্ধিতা না। মূল প্রতিবন্ধি রাষ্ট্র। আমাদের রাষ্ট্র প্রতিবন্ধি হয়ে গেছে।’
‘আজকে সরকার প্রধান বলছেন, আপনারা আন্দোলন করেন, আন্দোলন শেষে আপনারা আসেন; আমি আপনাদের চা খাওয়াবো। সেখানে আন্দোলনে মাত্র রাস্তায় নেমেছে। পুলিশ গুলি করে দিলো। এটা কখনো কোনো সুস্থ্য লোকের কাজ হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘আজকে প্রতিবন্ধিতা উনার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) চারিপাশে যারা আছে এমনভাবে ঘিরে ধরেছে যে তারা ম্যাজিস্ট্রেটের হুকুম ছাড়া আইনকে যথাচ্ছভাবে ব্যবহার করে পুলিশ নিজেই গুলি করে দিয়েছে। আজকে রাষ্ট্রের এ প্রতিবন্ধকতার মাঝখানে আমরা আছি।’
বুধবার রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ আর্থ- সামাজিক ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবীদের কাজের যথাযথ সামাজিক মূল্যায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ স্বেচ্ছাসেবীদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্য নিয়ে এইচ. আর.এ ফাউন্ডেশন, ইউকে -এর পক্ষ থেকে “স্বেচ্ছাসেবী সম্মাননা পুরষ্কার ” এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধীতা নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য এইচ. আর. এ ফাউন্ডেশন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ” উড়হব ংড়সবঃযরহম ঋড়ঁহফধঃরড়হ ” এবং সি.আর.পি- এর সার্বিক সহযোগিতায় ” উরংধনষবফ খরাবং গবঃঃবৎ(উখগ) এর ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজের আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করা হয়। একই সঙ্গে ৩৯ স্বেচ্ছাসেবী ও সংগঠনকে সম্মাননা পুরষ্কার দেওয়া হয়।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ভাস্ক সংকর ধর, লন্ডন প্রবাসী শেখ মফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে কেউ প্রতিবন্ধি নয়। তার কারণ সে ভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারে। সে কারণে তাকে ভিন্ন মতে দেখতে হবে, ভিন্ন সুযোগ দিতে হবে। প্রতিবন্ধিতার মূল চিকিৎসা হলো মানবিক চিকিৎসা। ভালোবাসাটায় হলো সবচেয়ে প্রতিবন্ধিতার বড় চিকিৎসা।’
তিনি বলেন, ‘কার্ল মার্ক্স একটা উদ্বৃতি নিয়ে একসময় বাংলাদেশের কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার একটা পোষ্টার বানিয়ে ছিলেন, সেখানে তিনি লিখে ছিলেন, সব ভালো কথা বলা হয়ে গেছে। সেটাকে কাজে পরিনত করতে হবে। আজকে কিছু লোক কষ্টে থাকবে আর আমরা অতি সুখে থাকবো সেটা হতে পারে না। সেটা আমার অজান্তে আমাকে ব্যাথা দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে শিক্ষিত বেকার থাকবে কেনো? বেকার থাকাটাও এক ধরণের প্রতিবন্ধিতা। কাজ নেই কিছু করতে পারি না। ফলে আত্মহত্যার হার বেড়েছে। এটা জাতির জন্য দুভার্গ্যজনক। এর জন্য আমাদের সকলের সম্মলিত উদ্যোগ দরকার।’
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব আছে। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র তো ফ্যাসিষ্ট রাষ্ট্র। রাষ্ট্র তো নিজেই প্রতিবন্ধি। এখানে যারা প্রতিবন্ধি আছেন আপনারা না। আজকে রাষ্ট্র আমাকে প্রতিবন্ধি করে রাখতে চায় । আমার আওয়াজ বন্ধ করে রাখতে চায়।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফরহাদ মাজহার বলেন, ‘বাংলাদেশে অটিস্টিক শিশুর প্রদান কারণ হলো সয়াবিন তেল ও খাদ্য। আমাদের এখানে যদি সার-কিটনাশক উৎপাদিত খাদ্য বন্ধ করা হয়, আমরা যদি সত্যিকার ভালো খাদ্য তৈরি করতে পারি তাহলে অবশ্যই বহু অসুখ, বিশেষ করে যে খাদ্য গুলো প্রতিবন্ধি তৈি তে সহায়ক সেটা গুলো কমাতে পারলে প্রতিবন্ধিতাও কমে আসবে। যে সকল ডিজিজ গুলো খাদ্য থেকে উৎপন্ন সে গুলো বন্ধ করার এক মাত্র উপায় হলো আগে খাদ্য ব্যবস্থা ঠিক করা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা আমাদেরকে স্বাভাবিক মনে করি, এখানে সমস্যা হলো আমাদের মধ্যে। যারা আমার চেয়ে ভিন্ন রকম। সে ক্ষমতায় আমার চেয়ে ভিন্ন, সে প্রতিবন্ধি নয়। সে আমার চেয়ে স্বতন্ত্র। তার জন্য যে প্রয়োজন টুকু দরকার সে প্রয়োজনটুকু আমাদের মিটাতে হবে।
‘এ সমস্যা যখন আমরা কাঠিয়ে উঠতে পারবো তখন আমার বুঝবো সব ঠিক আছে। কেউ যদি শারীরিকভাবে ভিন্ন রকম হয়, তার জন্য আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থ্যা করতে হবে। সেটা করাই আমাদের কাজ।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, রাজনীতি সমাজের পৃষ্ঠপোষকতা করবে না, না সমাজের বিরোধীতা করবে? যদি রাজনীতিবিদরা নিজের প্রয়োজনে, নিজের পরিবারে সুবিধার্থে সব কিছু করেন তাহলে সেটা ধ্বংসাত্মক রাজনীতি। তার সাথে আমি নাই।
যে ইব্রাহিম ২১ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করে ছিলো তার স্বপ্নটা হলো এ দেশ একটা কল্যাণ রাষ্ট্রে হবে। এখানে কারো দয়ার ওপরে একজন শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধি নির্ভর করতে হবে না। রাষ্ট্র যেনো তার দায়িত্বটা নিতে পারে।
নাট্যকার ও জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম বলেন, একটা সময় ছিলো যখন কন্টাসেপ্টিক বা জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাম প্রর্যায়ের মানুষ বা অনেক শিক্ষিত মানুষের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে এটাকে লজ্জাজনক মনে করতেন। আবার কোথাও কোথাও এটাকে পাপ মনে করা হতো। এমন কি পরিবার পরিকল্পনার কর্মীরা গ্রামে কাজ করতে গিয়ে তারাও এমন ঘটনা আছে লাঞ্ছিত হয়েছেন। তখন এটা খুব সহজ ছিলো না। এটাকে মানুষ ভালো চোখে দেখতো না।

সে বিষয়টি এখন এসে দাড়িয়েছে এমন যে, মানুষ তার নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য যে জিনিষ ক্রয় করে যেমন চাল ডাল ইত্যাদি.. এর সঙ্গে কন্টাসেপ্টিকটাও ক্রয় করে। কারন এটা নিত্য প্রয়োজনীয় হয়ে গেছে। এটি এমন পর্যায়ে এসেছে প্রচারের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের অটিজম এবং তার সচেতনতা নিয়ে কি কি করা যায় সে ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রচার নেই। এটি গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত প্রচার করা। আমি সে প্রচারের সঙ্গে সবসময় আছি।
এইচ. আর.এ ফাইন্ডেশন, ইউ কে. প্রধান সমন্বয়ক আরশ আলী বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধীদের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত । বমাননাকর, শেচনীয় ও পারিবারিকভাবে কোণঠাসা এবং তাদের প্রতি সার্বিক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কুসংষ্কার ও অপব্যাখ্যা দ্বারা প্রভাবিত।
তিনি বলেন, আমি ১৩ বছর থেকে লন্ডনে বসবাস করে আসছি। প্রায় ৪৫ বছর লন্ডনে থাকলে আমি মনে প্রাণে বাংলাদেশি। আমার এ সংগঠনের উদ্যোগে যদি দেশের মানুষের একটু উপকার হয় তাহলে আমার নিজেকে ধন্য মনে করবো।
আমাদের প্রত্যাশা, এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্য কার ইষধপশ খরাবং গধঃঃবৎ আন্দোালনের আদলে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হলে সমাজের সকল স্তরে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক ধারণা পৌঁছে যাবে, দুর্দশা লাঘব হবে এবং নিন্ম-জীবনমানের উন্নয়ন হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবি সম্মননা পুরষ্কার প্রাপ্ত ব্যক্তি ও সংগঠন গুলো হলো: বাংলাদেশে তৈরি বিন্দু সংযোগ সিলেটকে বাঁচান তাসরিফ স্কোয়াড (ঘরলবৎইড়ষধৎ গড়ঃড় ঊশঃধএড়ষঢ়ড়) ফাউন্ডেশন হারনেট ফাউন্ডেশন, খাজা গরীব নওয়াজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, সুরাট ফাউন্ডেশন, গুলজারে মদিনা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, কিছু ফাউন্ডেশন করুন, তৌহিদ আফ্রিদি, ফারুক আহমদ, সিলেট ম্যাগাজিন, আমীর হোসেন সাগর, ডা. নাজমুল ইসলাম, মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ, শেখ মফিজুর রহমান, দাগেনহাম জামে মসজিদ ইউকে, গণ অধিকার পরিষদ, মনির মিল্লাত, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, মনোয়ার হোসেন ডিপজল, এম এ অনন্ত জলিল, ফারাজ করিম চৌধুরী, ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, শোয়েব আলী, এসকিল আইটি, মানবতা প্রথম জ্ঞানের আলো পাঠাগার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১০০ ব্যাচ, সাউদার্ন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন (ঝঈঋ) ঐৎরফংঢ়ড়হড়ফড়হ জলবায়ু বিচারের জন্য ইয়ুথনেট, সৈয়দ আয়েশা ফাউন্ডেশন এর মানবতা ফাউন্ডেশন, এইচএমবিডি ফাউন্ডেশন, বঞ্চিত ফাউন্ডেশনের জন্য সাহায্য, সোম জুরানী এক্সপ্রেস বিডি।