রূপগঞ্জে বাড়ছে ছিনতাই অতিষ্ঠ গার্মেন্টস কর্মীরা

আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২০
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রই বেড়েছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই। বিশেষ করে গার্মেন্ট সংলগ্ন এলাকায় ছিনতাই অতিমাত্রায় বেড়েছে। উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের মর্তুজাবাদ, পাঁচাইখা, ভায়েলা, আউখাবো, বলাইখাঁ ও ভান্ডাবো এলাকায় বসবাসরত গার্মেন্টকর্মীরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। সন্ধ্যা হলেই এসব এলাকার শাখা রুটে ভাড়াটিয়া লোকজন চলচল করতে পারছে না। বহিরাগত ও ভাড়াটিয়া লোকজন পেলেই ছিনতাইকারীরা সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।
ভুক্তভোগি গার্মেন্ট কমীরা জানিয়েছে, উপজেলার মর্তুজাবাদ-আউখাব সড়কে গার্মেন্ট শ্রমিক স্থাণীয় ভাড়াটিয়া মহিবুর রহমানের কাছ থেকে শুক্রবার রাতে ২ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় মর্তুজাবাদ গ্রামের হাবিজুল্লার ছেলে হাবিবুর রহমান, ভাগিনা রাব্বি, কুদ্দুসের ছেলে আল আমিন, ইছব আলীর ছেলে ইব্রাহিম, সবজি বিক্রেতা আলী হোসেনের ছেলে আল আমিন। এ বাহিনী এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবেও পরিচিত। প্রতিদিন এ বাহিনী কর্তৃক মানুষজন মারধরের শিকার হচ্ছে। সন্ধ্যার পর এ বাহিনী টেটা ও বল্লম নিয়ে রাস্তাঘাটে ঘুরাফেরা করে। কিশোর গ্যাং বাহিনীর প্রধান হাবিবুর এলাকায় প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে আসছে। এ বাহিনী এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, জুয়ার আসর ও মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করে। বাঁধা দিলেই মারধর করা হয়।
এলাকাবাসী জানায়, সম্প্রতি উপজেলার বলাইখা এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই লাশের পেটে একাধিক ছুরির আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্থানীয়রা ধারণা করছে ওই বাহিনীর মাধ্যমেই অজ্ঞাত ব্যক্তি খুন হয়ে থাকতে পারে। মর্তুজাবাদ-আউখাব সড়কের আশপাশেই হাবিবুর বাহিনীর আনাগোনা দেখা যায়। এ বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেয়া হলে বড় ধরণের অপরাধের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও এলাকাবাসীর ধারণা। কিশোর গ্যাং গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্য অস্ত্র, মাদকসহ একাধিকবার গ্রেফতার হলেও থামছে না অপরাধ প্রবণতা। জামিনে এলাকায় এসেই আবারো পূর্বের পেশায় জড়িয়ে পরে।
গার্মেন্টস শ্রমিক বাতেন মিয়া জানান, মারধর করে জোরপূর্বক টর্চ লাইট ছিনিয়ে নেয় হাবিবুর বাহিনী। গার্মেন্টসের বেতন হলেই এ বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। অন্যথায় পরিবারের লোকজনকে বাড়িতে গিয়েও মারধর করে।
উপজেলার আউখাবো এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন জানান, মর্তুজাবাদ এলাকার কিশোর গ্যাং গ্রুপের কাছে স্থাণীয়রাও নিরাপদ নয়। প্রায় সময়ই ছিনতাই ও ভাড়াটিয়া লোকজনকে মারধর করার খবর আসে। কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পায় না। এরা পেশায় সন্ত্রাসী।
কিশোর গ্যাং গ্রুপের প্রধান হাবিবুর রহমানের বাবা হাবিজুল্লা জানান, আমি দিন মজুরের কাজ করি। ছেলের খবর ঠিক মতো রাখা হয় না। তাছাড়া সে কি কাজ করে তাও জানি না। অন্যায় কাজে জড়িত থাকলে বিচার হওয়া প্রয়োজন।
রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং গ্রুপের বিরুদ্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এতো দিন মর্তুজাবাদ এলাকার কিশোর গ্যাং সম্পর্কে জানা ছিল না। যেহেতু জেনেছি, অব্যশই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এম আর কামাল
নারায়ণগঞ্জ

LEAVE A REPLY