শীতকালকেই সামনে রেখে টেকনাফে শুঁটকি তৈরির ধুম

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২০
0

শাহপরীরদ্বীপ জালিয়া পাড়ার জেলে পল্লীতে মাছ শুকানোর ধুম বেশি পড়েছে। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ায় কাঁচা মাছ রোদে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে শুঁটকি মাছে রূপান্তর করার উপযোগী সময়। পাশাপাশি বর্তমান সময়ে সাগরে ফিশিং ট্রলারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছও ধরা পড়ছে বেশি।

আর এ সুযোগে সাগরের কাঁচা মাছ সস্তা দামে ক্রয় ও সংগ্রহ করছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে এসব কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শুঁটকি পল্লীর বাসিন্দারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুপাশে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি পল্লীতে সাগরের মাছ শুকানোর কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। এছাড়াও টেকনাফের পৌর এলাকা, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও শাহপরীর দ্বীপে শুঁটকি মাছের বড় পল্লী রয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কাঁচা মাছ শুকানো হয়।
এদিকে মৌসুম শুরুর পর থেকে জেলে পরিবারের নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশুরা পর্যন্ত সাগরের কাঁচা মাছ রোদে শুকানোর কাজে নেমে পড়েছে।

কয়েকজন জেলে জানান, শুষ্ক মৌসুম হচ্ছে কাঁচামাছ শুকানোর মোক্ষম সময়। আর এ সময় সাগরে জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়ে প্রচুর। কম মূল্যে সাগরের বিভিন্ন প্রজাতির কাঁচামাছ কিনে রোদে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে শুঁটকি মাছে পরিণত করে। কক্সবাজার চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহরের অনেক ব্যবসায়ী মহাজন এবং স্থানীয় বহদ্দার অগ্রিম টাকা দেয় শুঁটকি পল্লীতে।
এ মৌসুমে প্রতিদিন পিকআপ ও মিনি ট্রাক ভর্তি করে শুঁটকি মাছের চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ছুরি মাছ প্রতি মণ ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা, পাইস্যা মাছ ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা, লইট্টা মাছ ১৫ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকা ও পোয়া মাছ ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকারী জেলেরা জানান, কেবল লবণের পানি ব্যবহার করে কাঁচা মাছগুলো রোদে শুকানো হয়। কীটনাশক বা রাসায়ানিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় না। প্রক্রিয়াজাতকরণে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে গুণগত মানসম্পন্ন শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব হতো। অথচ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা কোনো প্রকার সহযোগিতা ছাড়াই এখানকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মৎস্যজীবীরা কাঁচা মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি মাছে রূপান্তর করছে। এখানকার মাছ বেশি স্বাদ ও মজাদার হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। তবে পরিবেশবান্ধব মানসম্মত শুঁটকি উৎপাদনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের দাবি করছেন কর্মজীবী শ্রমিকরা।

LEAVE A REPLY