শৈলকুপায় সাবাড় হচ্ছে বনজ, ফলদসহ নানা প্রজাতির গাছ!

আপডেট: জুন ২০, ২০২২
0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-
সরকারী অনুমোদন ছাড়াই যত্র তত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ স-মিল (করাত কল)। কোন নিয়মনীতি না মেনে এসব অবৈধ করাত কল চলছে আর প্রতিদিন সাবাড় হচ্ছে বনজ, ফলদসহ নানা প্রজাতির গাছ। আর সেইসাথে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। রাতে দিনে সব সময় সচল থাকে এসব সমিল। স-মিলের আশপাশের বাড়িতে বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে ভূক্তভোগীদের। কোনভাবেই লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না এসব অবৈধ স-মিলের মালিকদের।

বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। তাই দ্রুত অবৈধ সমিল অপসারণ ও আইনের আওতায় আনার দাবিও তাদের। এমন ঘটনা ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায়। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় অর্ধশত স-মিল রয়েছে। লাইসেন্স ছাড়াই যুগের পর যুগ এসব স-মিলের মালিকরা ব্যবসা করে আসছে। স-মিল চালানোর ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ম নীতি থাকলেও উপজেলা জুড়ে এ চিত্র ভিন্ন। বেশ কয়েক বার অভিযান চালিয়ে সতর্ক করা হলেও চোখের সামনে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই চলছে এসব স-মিল। অধিকাংশ স-মিল সড়কের পাশে অবস্থিত আর ফেলে রেখেছে শত শত গাছের গুঁড়ি। ফলে লোকজন মূল সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। যার কারণে অহরহ দুর্ঘটনাও ঘটছে। বন ও পরিবেশ বিভাগের তদারকির অভাবে রাস্তার পাশ, আবাসিক স্থান, বাণিজ্যিক এলাকায় স্থাপিত হয়েছে এসব স’মিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা জুড়ে সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে এসব স-মিল। স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে এসব অবৈধ স-মিল ব্যবসা করে আসছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের রাজস্ব। উপজেলার রয়েড়া বাজারে অবস্থিত লাইসেন্সবিহীন মায়ের দোয়া স-মিলের মালিক মোঃ রুবেল বলেন, আমরা এখনো লাইসেন্স পাইনি তবে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি। আশা করি খুব দ্রুত আমরা লাইসেন্স পাব। উপজেলায় প্রায় ৫০টির বেশী স’মিল রয়েছে, এরমধ্যে পৌর এলাকার হাবিবপুর, কবিরপুর, সিনেমা হলরোড, ফাজিলপুর, চরআউশিয়া ছাড়াও উপজেলার বারইপাড়া, নাদপাড়া, গাড়াগঞ্জ, বসন্তপুর,সাধুহাটি, বরিয়া, কাতলাগাড়ি খুলুমবাড়ি, তমালতলা, কাচেরকোল, কচুয়া, মদনডাংগা, শেখপাড়া, আলমডাংগা, গাড়াখোলা,চড়ইবিল, ভাটই, লাঙলবাধ, ধাওড়া, রয়েড়া, বকশীপুর, হাটফাজিলপুর, আবাইপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার সংলগ্ন ও লোকালয়ে এসব অবৈধ সমিল রয়েছে। যদিও স-মিল স্থাপন বিধিতে বলা হয়েছে, সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান ও জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানের ২০০ মিটার এবং সরকারি বনভূমির সীমানার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে স’-মল স্থাপন করা যাবে না। এ ছাড়া সকাল ৬টার আগে এবং সন্ধ্যা ৬টার পরে স-মিল চালানো যাবে না। সেইসাথে স-মিল চালানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তার পরেও সরকারি সব বিধিনিষেধ উপেক্ষিত হচ্ছে এসব সমিলে।

লাইসেন্স না থাকার ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স-মিল মালিক জানান, তারা লাইসেন্স ছাড়াই চলতে পারছেন। তাই লাইসেন্স করার দরকার কী। লাইসেন্স পেতেও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় তাই এভাবেই চলছেন তারা। উপজেলা স-মিল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরাদ আলী বলেন, উপজেলাতে অর্ধশত স-মিল রয়েছে এর মধ্যে ৮-১০ টির লাইসেন্স আছে আর অন্য কারো লাইসেন্স নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা বন কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, শৈলকুপাতে কিছু কিছু স-মিলের লাইসেন্স থাকলেও বেশীরভাগ স-মিলের লাইসেন্স নেই। কিছুদিন আগেও আমরা অবৈধ কয়েকটি সমিলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছিলাম। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে ওঠা স-মিলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা লিজা বলেন, ইতঃপূর্বে অভিযান পরিচালনার সাথে সাথে আমরা অবৈধ কিছু সমিলের বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন করেছিলাম। আবার অবৈধ সমিল গুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো।