‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি ব্যবসার জন্য ব্যবহার হচ্ছে দেশে

আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০২০
0

এস এম হৃদয় : ইদানিংকালে বাংলাদেশে ‘ সংখ্যালঘু ধর্ম ’ শব্দটাকে কেন যেন ব্যবসা ব্যবসা বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির হাতিয়ার হিসেবে মনে হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এদেশের সংবিধানে ধর্ম-বর্ণ নির্বেশেষে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার পরও কোন বিশেষ ধর্মের মানুষরা সংখ্যালঘু পরিচয় দেন কেমন করে ?
যে কোন রাষ্ট্রে বসবাস করা প্রতিটি মানুষ যাদের এদেশে নাগরিকত্ব রয়েছে তারা প্রত্যেকেই এদেশের নাগারিক। সেটা ইসলাম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দু আরও যারা রয়েছেন তারা সবাই ই। তাহলে ‘সংখ্যালঘু’ কথাটার কেন উৎপত্তি হচ্ছে। তাহলে একজন নাগরিক কিভাবে সংখ্যালঘু হন ? যেহেতু বাংলাদেশ সংবিধান বলছে এদেশ ‘ ধর্মনিরপেক্ষ ‘ দেশ তাহলে এখানে সকল ধর্মের প্রতিই রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ অবস্থান রয়েছে। কোন নিরপেক্ষ বিষয়ে সংখ্যালঘু এবং সংখ্যাগুরুর শব্দ ব্যবহার করা উচিত কি ?
সংখ্যালঘু শব্দটি ব্যবহারের ব্যবসায়িক সুবিধা কি ?
আমাদের সমাজে রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বক্ষত্রে সংখ্যালঘু শব্দ ব্যবহারের এক জমজমাট ব্যবসা জমে উঠেছে। এই শব্দটি এমন একটি শব্দ যা খুব সহজে বিশেষ ধর্মের লোকদেরকে ব্যবসায়ীক, রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাভিত্তিক সুবিধাভোগীতে পরিণত করেছে সেই ধর্মের সুবিধাবাদী চরিত্রের কিছু লোকজন। বর্তমানে বাংলাদেশে একটি বিশেষ ধর্মের মনুষের ‘সংখ্যালঘু’ পরিচয় ব্যবসায়িক সুবিধায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে ইদানিং সংখ্যালঘু ভোট বলে একরকম ভোটের উৎপত্তি হয়েছে! এই সংখ্যালঘু ভোট মানে কি ? নাগরিক কিভাবে সংখ্যালঘু হলো ?
বাংলাদেশের যারা নাগরিক তারা কেমন করে সংখ্যালঘু হয় ? একজন নাগরিক কিভাবে সংখ্যালঘু হয়? প্রশ্ন এতটুকুই।
কোন বিশেষ ধর্মকে ব্যবহার করে কোন সুযোগ সুবিধা অর্জনের পথ বাংলাদেশে বন্ধ হলেই এদেশে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তির অবস্থান আরও ভাল হবে। এদেশের ধর্মীয় পরিস্থিতিকে অশান্ত করার পেছেনে কিছু ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগী সংখ্যালঘু পরিচায়ধারীরা দায়ী বলেই মনে হচ্ছে। কারণ কোন নাগরিক কোনদিন সংখ্যালঘু হতে পারে না। এই ‘সংখ্যালঘু’ শব্দের ব্যবহার বন্ধের এবং পরিত্যাগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দু সবাইকে ধর্মের দৃষ্টিতে নয় নাগরিকের দৃষ্টিতে দেখলেই এই সংখ্যালঘু শব্দটি বিলুপ্ত হবে বলে মনে করছি। একটি দেশের নাগরিক কোন দিন সংখ্যালঘু হয় না।
লেখকঃ ফ্রিল্যান্স সংবাদকর্মী, ঢাকা।

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয় )

LEAVE A REPLY