সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা

আপডেট: জুলাই ৪, ২০২০
0

– তৈমূর আলম খন্দকার

একটি গণতান্ত্রকি রাষ্ট্ররে সৌর্ন্দয বৃদ্ধি করে সে রাষ্ট্ররে সংবাদপত্র। সংবাদপত্র শুধু ছাপা অক্ষরে কয়কেটি পৃষ্ঠার কাগজ নয়, বরং গণমানুষরে সুখ-দুঃখ, হাস-িকান্না, অধকিার-বঞ্চনা, পাওয়া-না পাওয়ার প্রতফিলন ও প্রতচ্ছিব।ি সংবাদপত্রসহ মডিয়িা আছে বলইে স্বরৈতন্ত্ররে বা আধপিত্যবাদরে কর্মকাণ্ড মানুষ জানতে পার।ে স্বরৈশাসক বা অপরাধীরা মডিয়িাকইে ভয় পায়, মডিয়িাই তাদরে কাছে সবচয়েে বড় আতঙ্ক। ক্ষমতাহীন সাধারণ মানুষ কছিুটা হলওে স্বস্তরি নঃিশ্বাস নতিে পারে মডিয়িার জন্য। স্বরৈতন্ত্র যখন আঘাত হান,ে তখন মডিয়িাকইে তাদরে লক্ষ্য নির্ধারণ কর।ে ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনরে সময়ও মাত্র চারটি পত্রকিা রখেে বাকি সব বন্ধ করে দয়ো হয়ছেলি। মডিয়িা জগতও জাতরি সার্বিক সমস্যা জনগণরে কাছে প্রকাশ করে এবং জনগণরে প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরার জন্য মডিয়িাই একমাত্র অবলম্বন। বাংলাদশেে যসেব বষিয় মডিয়িাতে প্রকাশ পয়েছে,ে প্রধানত সগেুলোরই বচিার বা সমাধান হয়ছে।ে অন্যগুলো বরফরে নচিে চাপা পড়তে পড়তে একদনি বরফ গলে নদী থকেে সমুদ্রে চলে যায়। কন্তিু সরকার তখন আর এর খােঁজ রাখে না। স্মরণ রাখে শুধু ভুক্তভোগীরা। সঙ্গত কারণইে, সংবাদপত্রকে একটি রাষ্ট্ররে চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।

অন্যান্য আইনরে পাশাপাশ,ি সংবাদপত্রগুলোর প্রকাশনা ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নবিন্ধীকরণ) আইন-১৯৭৩’ দ্বারা নয়িন্ত্রতি। একই আইনরে (চ) ধারা মোতাবকে ‘সংবাদপত্র’ অর্থ গণসংবাদ বা গণসংবাদরে ওপর মন্তব্যসহ কোনো সাময়কিী এবং সরকার কর্তৃক গজেটেে প্রজ্ঞাপন দ্বারা সংবাদপত্র হসিবেে ঘোষতি, এরূপ যকেোনো শ্রণেীর সাময়কিী এর অন্তর্ভুক্ত হব।ে’ সংবাদপত্র একটি শল্পি বট।ে ফলে মালকি গোষ্ঠী কর্তৃক বাণজ্যিকি বষিয়টি গুরুত্বরে সাথে ববিচেনা করা হয়, কন্তিু পরবিশেতি সংবাদ বাণজ্যিকি ভত্তিতিে ববিচেনা করা নতৈকিতার পরপিন্থী। ‘নতৈকিতা’ এমন একটি বষিয় যা আইন দয়িে পরমিাপ বা নয়িন্ত্রণ করা যায় না। তবে পত্রকিার নতৈকিতার মাপকাঠি নর্ভির করে সংবাদ পরবিশেনরে সততা এবং পাঠকরে মূল্যায়নরে ওপর। একতরফা সংবাদ বা বক্তব্য পরবিশেনা পত্রকিার সততা ও নতৈকিতাকে প্রশ্নবদ্ধি কর।ে প্রকাশতি সংবাদরে প্রতবিাদ না ছাপানো কংিবা কোনো লখেকরে লখোয় বক্ষিুব্ধ হলে বক্ষিুব্ধ ব্যক্তরি মন্তব্য বা (যদি সম্পাদকরে সমালোচনাও হয়) লখো না ছাপানো নতৈকিতার পরপিন্থী। সম্পাদক নজিে কোনো রাজনতৈকি দলরে সমর্থক বা সদস্য হতে পারনে, কন্তিু পত্রকিা ‘যা দখেবে তা লখিব’ে এটাই হবে করণীয়। কন্তিু অনকে ক্ষত্রেে দখো যায়, কোনো কোনো পত্রকিা কার্যত: নতৈকিতার পরপিন্থী ভূমকিা রাখছ।ে ‘নরিপক্ষেতা’র মুখোশ পরে সরকারি মুখপত্র হসিবেে ব্যবহৃত হচ্ছে সুকৌশল।ে

প্রেক্ষাপটে দখো যাচ্ছ,ে যার ১০টি ব্যবসা আছ,ে তনিি মডিয়িা জগতে প্রবশে করনে প্রতপিত্তি বা প্রভাবকে টকেসই করার জন্য। তবে যারা পশোগতভাবে সাংবাদকিতা করনে, তাদরে বষিয় আলাদা। ‘সংবাদপত্র’ একটি ‘প্রতষ্ঠিান’ হসিবেে পক্ষপাতত্বিে জড়য়িে পড়বে এটা নশ্চিয়ই জনগণ সমর্থন করে না। সংবাদপত্র যদি পক্ষপাতত্বি বা রাজনীততিে জড়য়িে পড়ে বা কারো মুখপত্র হসিবেে ব্যবহৃত হয়, তবে সটেি নরিপক্ষেতা হারায়। সে ক্ষত্রেে জনগণ নরিপক্ষে সংবাদ পাঠ থকেে বঞ্চতি হয়। একটি রাজনতৈকি দলরে নজিস্ব মুখপত্র থাকতে পার।ে কন্তিু ‘নরিপক্ষে’ থাকার ঘোষণা দয়িে একটি পত্রকিা কারো পক্ষ নতিে পারে না। উদাহরণ হসিবেে বলতে চাই, আপীল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির একটি লখিতি একটি আর্টিকেল গত বৎসর ৩ জুন একটি দনৈকি পত্রকিায় প্রকাশতি হয়। ওই পত্রকিায় আর্টিকেল বএিনপি নতোদরে ‘মথ্যিাবাদী’ বলে আখ্যায়তি করে ‘লর্ড হো হো’র সাথে তুলনা করছেনে। ওই র্আটকিলেে তনিি লখিছেলিনে- “তাদরে (বএিনপি নতোদরে) অবস্থা আজ লর্ড হো হো’র মতো, দ্বতিীয় বশ্বিযুদ্ধরে সময় র্বালনি বতোররে মাধ্যমে মথ্যিা প্রচারণার দায়ত্বিপ্রাপ্ত ব্যক্তদিরে ঘৃণা ও কৌতুকভাবে ডাকা হতো ‘লর্ড হো হো’ বল।ে” আমার কাছে মনে হয়ছে,ে সরকারবরিোধী গণতান্ত্রকি একটি রাজনতৈকি দলকে হয়ে করার প্রয়াসই ছিল ঐ লখোয় বিচারপতি মহোদয়ের উদ্দেশ্যে। সমালোচনা করার অধকিার প্রতটিি নাগরকিরে রয়ছে,ে কন্তিু অপমানকর ও অযৌক্তকি বক্তব্য দয়ো বাঞ্ছনীয় নয়। কন্তিু এর পরর্বতী ঘটনা আরো দুঃখজনক।

বএিনপি সম্পর্কে এই বক্তব্য খণ্ডন করে আমার একটি র্আটকিলে ই-মইেলে ওই পত্রকিায় পাঠাই। প্রতিবাদটি ছাপানোর অনুরোধ কর।ি প্রতিবাদটি না ছাপানোর কারণে কুরয়িার র্সাভসিরে মাধ্যমে লখোটি আবার পাঠাই। তার পরও লখোটি না ছাপানোর কারণে নজিে উপস্থতি হয়ে সটেি পত্রকিা অফসিে জমা দয়িে আস।ি ফটোকপতিে স্বাক্ষর করে র্আটকিলেটি আমার কাছ থকেে জমা নয়ো হয়। তার পরও লখোটি আজও প্রকাশতি হয়ন।ি প্রকাশনায় কারো বরিুদ্ধে অসত্য কোনো মন্তব্য করলে সংশ্লষ্টি ব্যক্তরি অধকিার সৃষ্টি হয় তার প্রতবিাদ করার। একই সাথে প্রকাশতি অসত্য বক্তব্যরে প্রতবিাদ বা পাল্টা বক্তব্য প্রকাশে সংশ্লষ্টি পত্রকিা আইন ছাড়াও নতৈকিতার কাছে দায়বদ্ধ।

নয়িমতান্ত্রকি সমালোচনা সাংবধিানকি ও গণতান্ত্রকি অধকিার। এ অধকিার বাস্তবায়নরে জন্য গণমাধ্যম অঙ্গীকারবদ্ধ বলইে সমাজ মনে কর।ে বচিার বভিাগরে এবং গণমাধ্যমরে নরিপক্ষেতা প্রতটিি ববিকেবান মানুষরে দাব।ি অবশ্য কোনো মতবাদ প্রতষ্ঠিা করা বা কোনো রাজনতৈকি দলরে মুখপত্র হওয়ার রীতি পৃথবিীব্যাপী রয়ছে,ে যার পাঠক রয়ছেে নজিস্ব গণ্ডতি।ে কন্তিু গণমাধ্যম কোনো দলরে মুখপত্র হয়ে কাজ করার প্রকাশ্যে ঘোষণা না দয়ো পর্যন্ত কোনো পক্ষপাতত্বির্পূণ আচরণ নতৈকিতার পরপিন্থী। যে পত্রকিা জনগণরে পক্ষ,ে সে পত্রকিায় সবার মত প্রকাশরে অধকিার দতিে হব।ে উল্লখ্যে, ভূমদিস্যুদরে বরিুদ্ধে কোনো কোনো পত্রকিা সংবাদ পরবিশেন করে না। কারণ এর মালকি নজিইে ‘ভূমদিস্যু’। ওদরে বআেইনি র্কাযকলাপরে বরিুদ্ধে প্রশাসন কোনো পদক্ষপে গ্রহণ করে না। কারণ, প্রশাসনরে মুখ কভিাবে বন্ধ করতে হয়, ভূমদিস্যুরা তা জান।ে কথা হলো, সে ক্ষত্রেে নরিীহ, নপিীড়তি সাধারণ গণমানুষ কোথায় গয়িে আশ্রয় খুঁজব?ে কারণ, এখনো সাধারণ মানুষ মনে কর,ে গণমাধ্যমই জনগণরে আশা-আকাক্সক্ষারও ভরসার স্থল, যাদরে কাছে আশ্রয় নয়ো যায়।

এতো গেলো মুদ্রার এক পিট, যা পত্রিকার প্রশাসনিক ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। অন্যদিকে ডিজিটাল আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে সাংবাদিক সমাজ নিজেরাও রয়েছে অনেক আবেগ উৎকন্ঠার মধ্যে। সাংবাদিকরা আমলা, মন্ত্রী, এম.পি’দের কর্মকান্ডের সঠিক চিত্র এবং সরকারী অফিসের দূর্নীতির কথা তুলে ধরলেই ডিজিটাল আইনের মামলার হুমকি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ বাড়ছে। বিগত বছরের চেয়ে চলতি বছরের ছয় মাসে এ আইনে মামলার সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ বছর এ আইনে যতগুলো মামলা হয়েছে তার আসামিদের প্রায় ২৫ শতাংশই সাংবাদিক। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এসব মামলায় ৫২ জন গ্রেফতার হয়েছেন, যার মধ্যে ১২ জনই সাংবাদিক। অথচ বেশির ভাগ মামলায় আসামিদের অপরাধের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই (সূত্র: জাতীয় পত্রিকা ০৪/৭/২০২০)।

সংবিধানের আর্টিকেল ৩৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “ (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং (খ) সংবাদ ক্ষেত্রের নিশ্চয়তা দান করা হইল” অথচ বস্তু নিষ্ঠ সংবাদ যা কারো গায়ে আঘাত হানলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য মতে, ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) কার্যকর রয়েছে। আর্টিকেল ১৯-এর হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের জুন পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ১০৯টি। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯ সালে মোট মামলা হয়েছে ৬৩টি। আর সেখানে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই মামলা ১০৯টি। এই সব মামলায় মোট আসামি ২০৬ জন। তাদের মধ্যে সাংবাদিক ৪৬ জন, আর অন্যান্য পেশায় কর্মরত ও সাধারণ মানুষ ১৬০ জন। এই হিসাব প্রায় ২৫ ভাগ আসামিই হলেন সাংবাদিক। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১০, ফেব্রুয়ারিতে ৯, মার্চে ১৩, এপ্রিলে ২৪, মে মাসে ৩১ এবং জুনে ২২টি মামলা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। আর্টিকেল ১৯ বলছে, গত বছর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে ৬৩টি। ২০১৮ সালে ডিএসএ এবং আইসিটি অ্যাক্ট মিলিয়ে মামলা হয়েছে ৭১টি (সূত্র: জাতীয় পত্রিকা ০৪/৭/২০২০)।

কোন লেখা প্রকাশের পূর্বে লেখকের যেমন নৈতিকতা বোধের একটি সীমা রেখা থাকা দরকার, অনদিকে ডিজিটাল আইন ব্যপকভাবে অব্যবহার হচ্ছে তাহাও জুডিশিয়াল নোটিশে থাকা দরকার।

LEAVE A REPLY