সকল বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার দাবী ডা.জাফরউল্লাহর

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১
0

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকার ছাত্রদের দাবী মেনে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আহবান জানান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

আজ ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২১, বুধবার বিকাল ৫ ঘটিকায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলানায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ড. আহমদ শরীফ স্মারক বক্তৃতা ও স্মারক পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠান।

ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তৃতা করেন কলকাতার বিশিষ্ট চিন্তাবিদ গবেষক অধ্যাপক ড. প্রথমা রায় মন্ডল। আহমেদ শরীফকে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ উল্লেখ করে তিনি তার বক্তব্যে বলেন- “তাঁর নিপুন চিন্তার দর্শন আলোচনার জন্য অল্প সময় যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বৃহৎ পরিসর।” তাকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ড. আহমদ শরীফ জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন – আহমদ শরীফ প্রচলিত ধ্যান ধারণাকে ভেঙে বিজ্ঞানসম্মতভাবে এবং যুক্তি ও প্রমাণ সাপেক্ষে সব কিছু বিচার করতে চেয়েছেন।

এরপর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর হাতে ড. আহমদ শরীফ স্মারক পুরষ্কার তুলে দেন অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন- ” এটি আমার জীবণের প্রথম পুরষ্কার নয় তবে অবশ্যই বিশেষ কিছু। এই পুরষ্কার আমাকে স্মরণ করে দিয়েছে আমার অনেক কিছু দেবার বাকি আছে।” জনগণের জন্য তাঁর অসীম দরদ ছিল উল্লেখ করে আহমদ শরীফকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ”স্বাধীনতার ক্ষুদ্র অংশই অর্জিত হয়েছে। কথা বলার ও মুক্তচিন্তার অধিকার এখনো অর্জিত হয় নি।” এছাড়াও তিনি সরকারকে ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেবার আহবান জানান। তিনি বলেন, আহমদ শরীফ বেঁচে থাকলে নিশ্চই ছাত্রদের দাবির সাথে একত্নতা প্রকাশ করতেন। আহমদ শরীফ স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক কোন আয়োজন না থাকায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে। পাশাপাশি সরকারকে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি সহনশীল আচরণ করার পরামর্শ দেন।

আনু মুহম্মদ আহমদ শরীফ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যে বলেন- “লেখক, গবেষক বা শিক্ষক তাঁর পূর্ণ পরিচয় বহন করে না। তিনি এর থেকেও বেশি কিছু।” আহমদ শরীফের লেখা নিয়ে গবেষণার জন্য ড. প্রথমা রায় মন্ডলকে তিনি ধন্যবাদ দেন। তিনি আরও বলেন -“আহমদ শরীফকে ইসলাম বিরোধী বলা হলেও বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের অবদান জানতে হলে আহমদ শরীফের বিকল্প নেই।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ও ড. নেহাল করিম। এছাড়া অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও অহমদ শরীফের স্মরণে সরচিত কবিতা পাঠ করেন হাসান ফকরী।
Jahangir