”সর্বাবস্থায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও ইসলাম নির্দেশিত নীতি-আদর্শের উপর অবিচল থাকতে হবে”

আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২২
0

এশিয়ার অন্যতম বিখ্যাত ও প্রাচীন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহ্ফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলন আজ (৭ জানুয়ারী) শুক্রবার লক্ষাধিক মুসল্লীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বলেছেন, বর্তমানে ঈমান, আমল ও ধর্মীয় অনুশাসন পালনে সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানদের মধ্যে গাফলতি দেখা যাচ্ছে। ইসলাম থেকে দূরে সরে পড়ার কারণেই মুসলমানগণ নানা দুর্দশা ও ঘাতপ্রতিঘাতের শিকার হচ্ছে। সঠিকভাবে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমেই কেবল এই বিপদাপদ থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর সাহায্য আশা করা যায়।

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি, ইনসাফ, সততা ও সহাবস্থানের ধর্ম। পরিপূর্ণরূপে ইসলাম মেনে চললে আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনের সাথে সাথে দুনিয়াবী জীবনও শান্তি এবং সমৃদ্ধিময় হবে। এ জন্য সবার আগে আমাদের ঈমান-আক্বিদা বস্তুনিষ্ঠ ও দৃঢ় করতে হবে। তারপর যথারীতি নামায কায়েম এবং এরপর রোযা, হজ¦, যাকাত’সহ অন্যান্য বিধানসমূহ মেনে চলতে হবে। সুন্নাত অনুযায়ী জীবন সাজাতে হবে। যেনা-ব্যভিচার, মিথ্যা, সুদ-ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যের হক আত্মসাত, মারামারি-হানাহানি এবং সন্ত্রাসী কর্মকা- থেকে দূরে থাকতে হবে। ইসলাম নির্দেশিত মানাবিক, সামাজিক কাজে অংশ নিতে হবে এবং সর্বাবস্থায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও ইসলাম নির্দেশিত নীতি-আদর্শের উপর অবিচল থাকতে হবে। এভাবে চলতে পারলে আমাদের সকলের দুনিয়া ও আখিরাতের যিন্দেগী সফল ও সার্থক হবে। মানুষের সকল হাহাকার, সংকট ও অশান্তি দূর হবে।

আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আরো বলেন, ইসলামে অসত্য, অন্যায়, সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের কোন স্থান নেই। ইসলাম ন্যায় ও শান্তির ধর্ম। ইসলামকে অনুসরণ করতে পারলে এদেশে কোন হানাহানি ও সন্ত্রাস থাকবে না এবং শান্তি ও ইনসাফ নিশ্চিত হবে।

দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুঈনে মুহতামিম আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন, মুহাদ্দিস মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আনোয়ার শাহ আযহারী ও ড. মাওলানা নূরুল আবছার আযহারীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রেখেছেন, বাবুনগর মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ আহমদ, প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, পটিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা আব্দুল হালীম বুখারী, নানুপুর উবায়দিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, বি-বাড়িয়া দারুল আরকাম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সাজেদুর, পটিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি আহমাদুল্লাহ, সিরাজগঞ্জ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, দারুল মাআরিফ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সুলতান যাওক্ব নাদভী, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, মেখল হামিউচ্ছুন্নাহ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা উসমান ফয়জী, মুজাহেরুল উলূম মাদ্রাসা মুহতামিম মাওলানা লোকমান, রাঙ্গুনিয়া দারুল উলূম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সা’দাত, জিরি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা খুবাইব, ফতেহপুর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মাহমুদুল হাসান, জিরি মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ড. মাওলানা আফম খালেদ হোসেন, মেখল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা ইসমাঈল খান, দারুল হেদায়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আজিজুল হক আল মাদানী, হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি কিফায়াতুল্লাহ, মাওলানা ফোরকান আহমদ, সিনিয়র শিক্ষক মুফতি হুমায়ুন কবীর, ড. মাওলানা নূরুল আবছার আল-আযহারী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বার্ষিক মাহফিলের পাশাপাশি দস্তারবন্দী সম্মেলন বা বিশেষ সমাবর্তনে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে গত শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) উত্তীর্ণ প্রায় ২৫০০ তরুণ আলেমকে প্রতিষ্ঠানের নাম ও মনোগ্রাম খচিত বিশেষ সম্মানসূচক পাগড়ী প্রদান করা হয়। তাদের মাথায় পাগড়ি তুলে দেন দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, প্রধান মুফতি ও মুহাদ্দিস আল্লামা নূর আহমদ, শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ আহমদ, শায়খে সানী আল্লামা হাফেজ শোয়াইব, মুঈনে মুহতামিম আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন, শিক্ষা পরিচালক মাওলানা কবীর আহমদ, সহকারী শিক্ষা পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ ওমর কাসেমী, মুহাদ্দিস মুফতি কিফায়াতুল্লাহ, মাওলানা ফোরকান আহমদ, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী প্রমুখ।

বিশেষ সমাবর্তনে পাগড়ি প্রদান শেষে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া তরুণ আলেমদের উদ্দেশ্যে উপদেশমূলক আবেগঘন বক্তব্য রেখে বলেন, তোমরা সবার আগে নিজে ও পরিবারের সদস্যদেরকে পরিপূর্ণ সুন্নাতের অনুসারীরূপে গড়ে তুলবে এবং পাশাপাশি প্রতিবেশী, সমাজ ও দেশবাসীর মাঝে ইসলামের শিক্ষা, আদর্শ, ইনসাফ ও শান্তির বাণী প্রচারের লক্ষ্যে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে।

হাটহাজারী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজার হাজার উলামায়ে কিরাম ছাড়াও লক্ষাধিক মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন। বাদ ফজর থেকেই বয়ান শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো মাহফিল স্থল কানায় কানায় পূর্ণ হযে যায়।

মাহফিলের দিন শুক্রবার প্রধান মসজিদ জামে বায়তুল কারীমে জুমার খুতবা প্রদান ও ইমামতি করেন আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন এবং জামে বায়তুল আতিকে জুমার খুতবা ও ইমামতি করেন মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী। বাদ জুমা হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া উপস্থিত লক্ষাধিক উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতার উদ্দেশ্যে বিশেষ বয়ান পেশ করেন।

এশিয়ার অন্যতম বিখ্যাত দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল উপলক্ষ্যে শিক্ষা ভবন, ছাত্রাবাস, বিশাল প্যান্ডেল এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কসহ সমগ্র হাটহাজারী এলাকা যেন হাজার হাজার উলামা-মাশায়েখ ও তরুণ আলেমদের এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। – বিজ্ঞপ্তি।