সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হলেন যুবলীগ নেত্রী

আপডেট: মে ২৮, ২০২০
0

করোনা মহামারীর মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখার খেসারত দিতে হলো গাংনী উপজেলা আওয়ামী মহিলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং গাংনী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিনকে। অনৈতিক কাজে ধরে পড়ে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হলেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুর ২টায় গাংনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফারহানার ভাড়া বাড়িতে তার প্রেমিক মেহেরপুর সদর উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের গোলাম সারোয়ার সবুজের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর ধরা হয় ২০ লাখ টাকা। স্থানীয়রা জানান, এক সন্তানের জননী ফারহানা ইয়াসমীন তার প্রয়াত স্বামী সাহাবুদ্দীন জীবিত থাকা অবস্থায় গোলাম সারোয়ার সবুজের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বেশ কিছু দিন ধরে গোলাম সারোয়ার সবুজ ফারহানার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। ফারহানা ও গোলাম সারোয়ার সবুজের আচরণে সচেতন জনতার মাঝে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়। গোলাম সারোয়ার সবুজ আজ বেলা ১১টায় ফারহানার বাড়িতে আসলে বেরসিক জনতা তাদের আটকে রাখে।

সামাজিক দূরত্ব লংঘনের খবর পেয়ে গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক ও পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওবাইদুর রহমান, স্থানীয় কাউন্সিলর আছেল উদ্দীন, কাউন্সিলর নবীর উদ্দীন, শ্রমিক নেতা মনিরুল ইসলাম মনিসহ প্রতিবেশীরা ফারহানার বাড়িতে ছুটে আসেন। উল্লেখ্য, গত ৬ই মে গাংনীতে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পর থেকে করোনা প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে উঠে।

জনপ্রতিনিধিদের কাছে ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন দাবি করেন, উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের পর থেকে সবুজের সাথে আমার পরিচয়। সে আমার ছোট দেবরের মত। আমার বাড়ীতে প্রায়ই বেড়াতে আসে। আমার প্রয়াত স্বামী শাহাব উদ্দীন জীবিত থাকাকালীন সময় থেকে আমার বাসায় যাতায়াত করতো। অন্যদিকে সবুজ জানায়, আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক নানা কর্মসূচীতে তার সাথে আমার পরিচয়। আমি তার ছোট ভাই হিসাবে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলাম। পরবর্তীতে সে আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছে। এসময় তার একমাত্র ছোট মেয়ে বহু লোকজন ও সাংবাদিকদের জানায়, অনেক আগে আমার মা সবুজ আঙ্কেলকে মোটর সাইকেল কিনে দিয়েছে।

কিন্তু সম্পর্কের বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহের সৃষ্টি হওয়ায় গোলাম সারোয়ার সবুজের ম্যাসেঞ্জার পরীক্ষা করে তাদের অশ্লীল ছবি ও কথাবার্তা, ভিডিও পাওয়া যায়। পরে উভয়ের সম্মতিতে ২০ লাখ টাকা দেন মোহরে তাদের বিয়ে হয়।

মেয়েপক্ষের উকিল পৌর মেয়র আশরাফুল জানান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীদের উপস্থিতিতে ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিনের সঙ্গে তার প্রেমিক গোলাম সারোয়ার সবুজের সঙ্গে ২০ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। মেয়েপক্ষের দুজন স্বাক্ষী হলেন কাউন্সিলর আছেল উদ্দীন ও শ্রমিক নেতা মনিরুল ইসলাম মনি।

 

বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঁশবাড়িয়া গ্রামের কাজি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘২০ লাখ টাকা বাকি দেনমোহরে ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন ও গোলাম সারোয়ার সবুজের বিয়ে হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মুহসিনুল কবির ওরফে মহাসিন হুজুর।’

বিয়েতে উপস্থিত নেতারা জানান, বিয়ের সময় ছেলের বাবা, চাচা ও তাদের স্থানীয় ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

গাংনী থানার ওসি মো. ওবাইদুর রহমান জানান, মেহেরপুর এলাকার একটি ছেলেকে নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিনের বাড়িতে ঝামেলা হয়েছে বলে খবর পাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে অন্য পুলিশ সদস্যদের রেখে গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় চলে এসেছি। পরে জানতে পেরেছি, ২০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়েছে।’

গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক বলেন, ‘ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারি, ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন ও গোলাম সারোয়ার সবুজের মধ্যে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের জেরে গোলাম সারোয়ার সবুজ প্রায় প্রতিনিয়ত ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিনের বাড়িতে যাতায়াত করত। ঘটনার সময় দুজন একবাড়িতে রয়েছে মর্মে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন হৈচৈ শুরু করে। পরে দুজন দুজনকে ভালোবাসা ও অনৈতিকতার বিষয়টি প্রকাশ পেলে তাদের সম্মতিতে বিয়ে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য ২০১৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফারহানা ইয়াসমিন ৩২ হাজার ৯শ ৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।

LEAVE A REPLY