সেই নাটকের জন্য নিশো-মেহজাবীনের দুঃখ প্রকাশ

আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২১
0

নাটকের নাম ‘ঘটনা সত্য’। ঈদ উপলক্ষ্যে চ্যানেল আইয়ে প্রচারের পর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল মিউজিক অ্যান্ড ভিডিও (সিএমভি)-র ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয় এটি। মঈনুল সানুর চিত্রনাট্যে নাটকটি নির্মাণ করেন নির্মাতা রুবেল হাসান; প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। প্রকাশের পর নাটকটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। দর্শকদের তুমুল আপত্তি ও প্রতিবাদের পর নাটকটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতেও সমালোচনা থামছে না।

অনেকেরই প্রশ্ন এই নাটকে কিভাবে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। তারা কি নাটকের স্ক্রিপ্ট পড়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি? `বাবা-মার পাপ কর্মের ফল শিশু’ এমন সংলাপ চোখে পড়েনি তাদের?

বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় তখন মুখ খুললেন `ঘটনা সত্য’ নাটকের দুই মূখ্য চরিত্র আরফান নিশো ও মেহজাবীন।

এ নিয়ে নিজের ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন নিশো। সেখানে বিশেষ শিশুদের প্রতিটি পরিবারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন অভিনেতা। বললেন, আমি দুঃখিত, লজ্জিত, বিব্রত এবং অনুতপ্ত।

আফরান নিশো লিখেছেন, `আমি আফরান নিশো। একজন অভিনয়শিল্পী। একজন বাবা। পৃথিবীর প্রতিটি বাবার মতো, আমিও আমার সন্তানের প্রতি সমান আবেগী। `ঘটনা সত্য’ নাটক নিয়ে যে অনাকাঙ্খিত এবং অনিচ্ছাকৃত ভুল সংগঠিত হয়েছে— এতে যেসব বাবা-মায়ের হৃদয় কেঁদেছে, আমিও তাদের কান্না অনুভব করতে পেরেছি। তাই সবার দুঃখে আমিও সহমর্মী। প্রতিটি পরিবারের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

এই অভিনেতা বলেন, `আমি যে মাধ্যমে কাজ করি, সেই মাধ্যমটির সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি মানুষকে আমি একটি পরিবারের সদস্য মনে করি। প্রযোজক, পরিচালক কিংবা শিল্পী-কলাকুশলী— আমরা সবাই এই পরিবারের সদস্য। আমি আমার নাট্যপরিবারের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ভুলে তাদেরকেও কষ্ট দিয়েছি। ঘটে যাওয়া ভুলের জন্য আমরা কেউই দায় এড়াতে পারি না। ভুল থেকে আমি,আমরা নতুন করে শিক্ষা নিয়েছি। একই সাথে নিজের সামাজিক অবস্থান, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নতুন করে উপলব্ধি করতে পারছি। আমি দুঃখিত, লজ্জিত, বিব্রত এবং অনুতপ্ত। আশা করছি, ভবিষ্যতে সামাজিক যে কোনো বিষয়ে আমি, আমরা আরো অনেক বেশি সংবেদনশীল থাকবে।’

জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলেন, ‘বিশেষ শিশুদের প্রতি আমার বিশ্বাস, ভালোবাসা বরাবরই ছিল। এক ভুলে তা শেষ হয়ে যেতে দিবো না। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বিশেষ শিশুদের কল্যাণে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবো। কারণ আজকের শিশুরা আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যত। আমাদের সম্পদ। আমার নাট্যপরিবারের প্রতিটি সংগঠন বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন। তাদের উদ্দেশ্যে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমি,আমরা সুন্দর এবং শুদ্ধ শিল্পচর্চার পথে এগিয়ে যাব।’

মূলত জীবন ঘনিষ্ঠ কাহিনি নিয়ে তৈরি নাটকটির শেষ অংশের একটি বার্তা নিয়েই সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রতিবন্ধী শিশুকে পাপের ফল বলে মন্তব্য করা হয় সেখানে।

এদিকে মেহজাবীন চৌধুরী তার ফেসবুক পেইজে একটি পোষ্ট দিয়ে নাটকটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, নাট্যজগত একটি পরিবারের মত। দর্শক থেকে প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী-কলাকুশলী আমরা সবাই এই পরিবারের সদস্য। সর্বাচ্চ সতর্ক থাকার পরও পরিবারের যে কোনো সদস্যের ভুল হতে পারে। আমাদেরও ভুল হয়েছে।

সম্প্রতি প্রচারিত একটি নাটকের একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ভীষণভাবে লজ্জিত, দুঃখিত, বিব্রত, সেই সাথে অনুতপ্ত। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সামাজিক অবস্থান, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আমি নতুন করে উপলব্ধি করতে পারছি।

আশা করছি, ভবিষ্যতে সামাজিক যে কোনো ইস্যুতে আমি আরো অনেক বেশি সংবেদনশীল থাকবো। বিশেষ শিশুদের প্রতি আমার বিশ্বাস, ভালোবাসা বরাবরই ছিল। বিশেষ শিশুর বাবা-মায়েদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বিশেষ শিশুদের কল্যাণে আজীবন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবো।

কারণ বিশেষ শিশুরা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পদ। তারা আগামী দিনের ভবিষ্যত। বিশেষ শিশু এবং তাদের বাবা-মায়ের সম্মানে আঘাত দেয়ার মত গর্হিত কোনো কাজে জ্ঞাত বা অজ্ঞাতভাবে আমি আর কখনোই কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা করবো না। বরং তাদের কল্যাণে আজীবন কাজ করার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ হচ্ছি।

আমি আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে শিল্পচর্চার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে সমাজের কল্যাণে আজীবন কাজ করে যাবো।