৭১ এর বীরাঙ্গনা জেলেখা খাতুন এর মৃত্যুতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শোক

আপডেট: আগস্ট ৩, ২০২২
0

আজ সকালে ধানমন্ডিস্থ গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল ময়মনসিংয়ের বীরাঙ্গনা জেলেখা খাতুন মৃত্যুবরন করেন ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।

বীরাঙ্গনা জেলাখা খাতুনের মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানান।

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ভুঞা পাড়া গ্রামের জেলেখা খাতুন ১৯৭১ সালে
পাক হানাদার কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন। চরম নিগ্রহ আর অভাব অনটন বছর জীবন অতিবাহিত করেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ” বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার বলে প্রতিনিয়ত বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু মূলত তারা মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছেন। যেসকল মা-বোনদের জীবন ও ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ। তাঁদের প্রতি বর্তমান সরকার উদাসীন।তাঁদেরকে সরকার সম্মানিত এবং স্বীকৃতি না দিলে বাংলাদেশকে অস্বীকার করার শামিল। স্বাধীনতার যুদ্ধকালে যেসকল মুক্তিযোদ্ধা ও মা বোনরা জীবন দিয়েছেন, ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল তারা সকলেই বীরাঙ্গনা তাদের প্রতি অবজ্ঞা ইতিহাস ক্ষমা করবেনা।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী শোকবার্তায় আরো বলেন,
সরাকরীভাবে অনিবন্ধিত বীরাঙ্গনাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান না করায়
জনগনের পক্ষ থেকেই নারীপক্ষ এ বীরাঙ্গনাকে বাংলাদেশের পতাকা আবৃত করে সম্মান জানিয়ে তাঁর গ্রামের বাড়িতে দাফনের ব্যবস্থা করায় নারীপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।”

উল্লেখ্য, নারীপক্ষ ২০২১ সাল থেকে “৭১ এর যে নারীদের ভুলেছি” কর্মসূচির
আওতায় বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে বীরাঙ্গনা
জেলেখা খাতুনসহ বেশ কয়েকজন বীরাঙ্গনাকে মাসিক ভাতা ও কোভিড কালীন সহায়তা
প্রদান করে আসছে, যা কিছুটা হলেও তাঁদের আর্থিক কষ্ট লাঘবের জন্য সহায়ক
হয়েছে।