আল-জাজিরা প্রকাশিত প্রতিবেদন জাতিসংঘকে তদন্তের আহবান বিএনপির

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১
0

আল-জাজিরা প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘকে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। আজ গুলশান চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের মাধ্যমে এ আহবান জানান।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ সময়ে বলেন , ”আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরায় ‘অষষ ঃযব চৎরসব গরহরংঃবৎ’ং গবহ’ শীর্ষক প্রচারিত অনুসন্ধান প্রতিবেদন সম্পর্কে দেশবাসী তথা বিশ্ববাসীর সাথে আপনারাও নিশ্চয়ই অবগত আছেন। ঐ প্রতিবেদনে সরকার প্রধানের পৃষ্ঠপোষকতায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কতিপয় কর্মকর্তা ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে তথ্য প্রমানসহ নানান দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারি সকল প্রতিবাদ বিবৃতিতে প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগসমূহের সুনির্দিষ্ট জবাব না দিয়ে রাজনৈতিক বুলির আড়ালে অভিযোগসমূহকে প্রত্যাখ্যান করে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এমন কি জাতিসংঘের মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকেও অপরাধ আড়ালের ঢাল হিসাবে ব্যাবহার করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিও সরকারের ঐসকল বক্তবের গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যার দাবী জানিয়েছিল।”

ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ এবং তার প্রতিবাদে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ-বিবৃতিকে জাতিসংঘ আমলে (পড়মহরুধহপব) নিয়ে জানিয়েছে যে “ঞযব ধষষবমধঃরড়হং ড়ভ পড়ৎৎঁঢ়ঃরড়হ (ধৎব) ধ ংবৎরড়ঁং সধঃঃবৎ ঃযধঃ ংযড়ঁষফ নব রহাবংঃরমধঃবফ নু ঃযব ৎবষবাধহঃ ধঁঃযড়ৎরঃরবং.” দুর্নীতির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করার আহবানের পাশাপাশি জাতিসংঘ জানিয়েছে যে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট কর্তৃক আল জাজিরার প্রামাণ্যচিত্রে যে ধরনের অত্যন্ত সংবেদনশীল টেলিফোনে আড়িপাতা ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের কথা উঠে এসেছে ওই ধরনের কোনো সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয় জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের সম্পাদিত চুক্তিতে নেই। তাছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের কোনো কন্টিনজেন্টে এ রকম সরঞ্জাম ব্যবহারও করে না।

টঘ চবধপবশববঢ়রহম-ওহঃবষষরমবহপব চড়ষরপু অনুযায়ী কেবলমাত্র ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় ঐ ধরণের যন্ত্রপাতি জাতিসংঘ ব্যবহার করে থাকে। এবং তাও ‘ংঃৎরপঃষু’ ব্যবহার হয়ে থাকে কেবলমাত্র টঘ চবধপবশববঢ়রহম-ওহঃবষষরমবহপব চড়ষরপু এর আওতায় জাতিসংঘের ঋড়ৎপব ঈড়সসধহফবৎ এর সরাসরি কর্ত্বত্বে। সরকার হাঙ্গেরি থেকে আড়িপাতা যন্ত্রপাতি কেনার কথা ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছে। তবে বাংলাদেশের সংগে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন একটি দেশ থেকে এসকল সরাঞ্জামাদি আমদানির ক্ষেত্রে অপকৌশল অবলম্বনের অভিযোগ সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো গ্রহনযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা সরকারি বিবৃতিসমূহে অনুপস্থিত। অথচ বিষয়টি রাষ্ট্রীয় নীতিমালার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুতর অভিযোগ।

ইতোমধ্যে ৭ টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা যেমন- (হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, দ্য এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাগেইনস্ট টর্চার, দ্য এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস এবং ইলিয়স জাস্টিস) এক যৌথ বিবৃতিতে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলো নিয়ে জাতিসংঘকে নিজের মত করে তদন্ত এবং শান্তিরক্ষা মিশনের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশী ইউনিট ও ব্যক্তিদের মানবাধিকারের রেকর্ড নতুন করে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।

নিজ দেশে সংগঠিত কোন অনিয়ম আড়াল করার জন্য জাতিসংঘকে ব্যবহার না করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং সামগ্রিক পর্যালোচনার আগ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি বিষয়ক আলোচনা স্থগিত রাখা উচিৎ বলেও ঐ ৭টি সংগঠন জাতিসংঘকে জানিয়েছেন।

একদিকে সরকার আল-জাজিরার পুরো প্রতিবেদনকেই মিথ্যা ও বানোয়াট বলে নাকচ করে দিয়েছে; অপরদিকে দায়সারাভাবে জাতিসংঘের কর্তৃক তদন্ত আহবানে অনাপত্তি জানিয়ে বলেছে, ‘তদন্ত হতেই পারে, এ ব্যাপারে আমাদের কোন আপত্তি নাই। সরকারের কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করবো। তবে তদন্তের জন্য জাতিসংঘ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন অনুরোধ জানায়নি’।

আবার অন্যদিকে আল-জাজিরার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে তথ্যগত ভুল আছে, সেগুলো আমরা তুলে ধরবো এবং আমরা মামলা করবো। আমরা সেটার জন্য কাজ করছি’। অর্থাৎ আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই না করেই সরকার প্রতিবেদনটিকে ঢালাও ভাবে “মিথ্যা ও বানোয়াট” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অথচ সঠিক তথ্যের প্রকাশই হচ্ছে ভুল তথ্যের জবাব।

আর অপ্রচার থেকে ভাবমূর্তি পূণঃরুদ্ধারের উপায়ও হচ্ছে আসল সত্য তুলে ধরা। কিন্তু সরকার প্রতিবেদনের মূল বিষয় বস্তু উহ্য রেখে খ-িত তথ্য অথবা প্রান্তিক বিষয়ের উপর ভর করে ‘ষড়যন্ত্রের তত্ব’ প্রকাশ করে চলছে। যদিও তথ্যচিত্রটি সম্প্রচারের আগে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল যা তারা উপেক্ষা করেছে।