সরকারের পেছনে আজরাঈল দাঁড়িয়ে গেছে : মির্জা ফখরুল

আপডেট: জুন ৩, ২০২৩
0

বর্তমান সঙ্কট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ, পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আর সময় নেই সরকারর। এদের পেছনে আজরাঈল দাঁড়িয়ে গেছে। আর পার পাবেন না।

শনিবার (৩ জুন) নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সপরিবারের বিরুদ্ধে ১/১১ অবৈধ সরকার কর্তৃক দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় বাতিলকৃত সাজা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সমাবেশের আয়োজন করে দলটি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ আওয়ামী লীগের লক্ষ্য ছিল একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার। তারা এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করতে তারা কোর্টের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে। এজন্য তারা দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচনের ব্যাবস্থা করেছে। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে মিথ্যা রায় দিয়েছে সরকার। এরা আদালত ব্যাবহার করে নির্বাচনে ফাঁকা মাঠ পেতে চায়। এ আশায় গুড়ে বালি। সেটা কখনো হবে না। এ দেশের মানুষ সেটা কখনো হতে দিবে না।

তিনি বলেন, মানুষ ভেবে ছিল বাজেট তাদের জন্য কোনো সুখবর থাকবে। কিন্তু ওই বিধিবাম। আল্লাহ করে এক, মানুষ ভাবে আরেক। সরকার মশকরা করছে। এটা নাকি গরিব বান্ধব বাজেট। যার আয় নেই তাকেও নাকি ২ হাজার টাকা আয়কর রিটার্ন দিতে হবে।

‘এই হাইকোর্ট থেকেই আমান, টুকু খালাস পেয়েছিলেন, ওই মামলাগুলো উজ্জীবিত করে তাদের বিরুদ্ধে রায় দেয়া হয়েছে। একই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মায়াকে খালাস দেয়া হয়েছে। এরা কারা, এরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা।’

সামনে কোরবানি ঈদ, একজন শ্রমিক বলছে আমরা একদিন গোশত খাইতে চাই, কিন্তু কিভাবে খাবে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তারা আদা মসলা কিনবে কি করে। এই সরকার দেয়ালের লিখন পড়ে না। সাধারণ মানুষের কথা ভাবে না। এখন এরা সুবোধ সেজেছে। ভালো পোশাক পরে, এসি রুমে বসে থাকছে বলে দেশ নাকি সিঙ্গাপুর হয়ে গেছে।

‘এদের এখন একটু মাথা ব্যাথা শুরু হয়েছে, ভিসা নীতি নিয়ে। মার্কিন বলেছে সুষ্ঠু নির্বাচন না করলে ভিসা থেকে বঞ্চিত হবেন।’

মহাসচিব বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে, মাথা ফাটিয়ে এরা কি আমাদেরকে আটকে রাখতে পেয়েছে? নেতাকর্মীরা তখন উচ্চস্বরে বলে না। এদেরকে পদত্যাগ করতে হবে। বর্তমান সঙ্কট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। আর সময় নেই সরকারর। এদের পেছনে আজরাঈল দাঁড়িয়ে গেছে। আর পার পাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুস সালাম বলেন, মানুষ বাজেট বোঝে না, মানুষ মাথা পিছু আয় বোঝে না। মানুষ বোঝে চালের দাম কমলো কি না? তারা সেটা বুঝে। আর কিছু বুঝতে চায় না। জিনিস পত্রের দাম বাড়িয়েছে তারা পুলিশ বাঁচানোর জন্য। সব কিছু লুটপাট করে শেষ করেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে ভয় পাচ্ছেন। আমাদের সিনিয়র নেতাদের জেলে ঢুকিয়ে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চান। তা কি হতে দেয়া হবে? না। নেতাকর্মীরা বলে না। এই সরকার অবৈধ। আমরা বিচার মানি। কিন্তু গায়েবি মামলা দেয়া হয়। এটা কি মানা যায়। আওয়ামী লীগ বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা কালকেই এ সরকারের পতন চাই। সব কিছু দলীয়করণ করেছে আওয়ামী লীগ। তারপরও তার ভয় সামনে নির্বাচন হলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এটা বুঝে ফেলেছে আওয়ামী লীগ। ওরা ভুয়া ভুয়া।

মির্জা আব্বাস বলেন, এ মামলা দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই মামলায় আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেল হলো, শেখ হাসিনা মুক্তি পেল। আমি আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক সাথে কারাগারে ছিলাম, সে তার মামলায় মুক্তি পায় একই মামলা আমার এখনো আছে। আওয়ামী লীগ দেশটাকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে।

মানুষ যখন আশ্রয় পায় না, তখন মানুষ যায় হাইকোর্টে। কিন্তু সেখানেও আশ্রয় মিলে না। দেশের মানুষ শান্তিতে নেই, সবাই অশান্তিতে ভুগছে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যে সরকার আমাদের ওপর নির্যাতন, জুলুম করে তার কাছে থেকে কিছু চাওয়া বেমানান। এই শেখ হাসিনার কারো মুক্তি কাছে চাইবো না। যারা গণতন্ত্রের শত্রু, যারা বারবার এই দেশের গণতন্ত্র হত্যা করেছে। আমরা তাদের হাত থেকে এ গণতন্ত্র উদ্ধার করতে পারি না। যেখানে হাসিনা থাকে সেখানে গণতন্ত্র থাকে না। সেখানে গণতন্ত্রের ভাত নেই। ওরা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু। এদের বিদায় করলে আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশের ১৮ কোটি জনগণ মুক্তি পাবে। কিভাবে রাজপথে নামবেন সেটা আপনাদের ভাবতে হবে। তবে আমরা আর মার খাবো না।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যা কিছু দেখতে পাচ্ছেন সব ভোট চুরির জন্য করছে সরকার। দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা ভোট চুরি একটা প্রকল্প একটি অংশ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বে এটাও ভোট চুরির একটা অংশ। আমান ও টুকুর বিরুদ্ধে মামলার রায় এটাও ভোট চুরির একটা অংশ। বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি, গ্রেফতার, মামলা সব ভোট চুরির একটা অংশ। এজন্য ভোট চুরির ফল স্বরূপ মার্কিন ভিসানীতি দিয়েছে ভোট চুরির প্রতিরোধ করার জন্য। এদের ভোট চুরির বিরুদ্ধে লড়তে হবে, বিপ্লব করতে হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপি উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক
আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বকুল, মহিলা দলের সভানেত্রী মির্জা আফরোজা আব্বাস, বিএনপি নেতা ফজলুল হক মিলন, হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

এর আগে, বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে নেতা কর্মীরা জড়ো হন নয়াপল্টনে। হাতে হাতে রয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন, প্লে কার্ড ও খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসে দলটির নেতাকর্মীরা।

সমাবেশের কারণে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় বন্ধ থাকায় জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন দেখা গেছে। সমাবেশে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।