ধর্ম অবমাননার স্পর্ধা কোথায় পেল : ইসলামের সাথে জঙ্গীবাদের কোনো সম্পর্ক নেই– খতিব সাইফুল্লাহ

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২১
0

‘কমান্ডো’ সিনেমার টিজারে ইসলাম ধর্মকে অবমাননার অভিযোগকারীর কাতারে শামিল হয়েছেন মিরপুর পল্লবী মুসলিম বাজার মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ। সিনেমাটি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত ২৭ নভেম্বর একটি স্ট্যাটাস দেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে।

গত ৩ দিন ধরে চলা বিতর্কের পর ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে সিনেমাটির টিজারটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে ইতোমধ্যে।
সেখানে তিনি ‘কমান্ডো’সিনেমার টিজারের তিনটি স্ক্রিনশট দিয়ে একে ইসলামবিরোধী বলে আখ্যা দেন।

সিনোমার টিজার প্রকাশের পরই দেশব্যাপী বির্তক ছড়িয়েছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠেছে এর বিরুদ্ধে।
সিনেমাটিকেকে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করেছেন অনেকেই।
পাঠকের উদ্দেশে মাওলানা আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহর সেই স্ট্যাটাসটি দেয়া হলো –

‘১ম ছবিটি দেখুন। কালেমা খচিত পতাকা, পতাকার নীচের অংশে AK-47 এর সিম্বল । পতাকার পেছন থেকে অস্ত্র হাতে বেরিয়ে আসছে কথিত সন্ত্রাসীরা । ২য় ছবিটিতে দেখুন। চারদিকে আরবি লিখা। টিজারের এই অংশে দেখানো হচ্ছে কথিত সন্ত্রাসীরা সুন্নাতি পোশাক পরে ‘নারায়ে তাকবির’, ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিচ্ছে।’

‘কালেমাধারীদের পরাজিত করার জন্য ‘নায়ক দেব’ যুদ্ধ করে যাবে এই সিনেমাতে । এই মুভিতে দেখাবে ইসলামি জঙ্গিবাদ দমনে নায়ক দেব এসে হাজির হয়েছে। আর জঙ্গিদের সিম্বল হিসাবে কালিমা খচিত পতাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে সুস্পষ্টভাবে ইসলামকে ডিমোনাইজ করা হচ্ছে। ভিলেন বানিয়েছে ইসলামকে। যা ইচ্ছাকৃত ইসলাম বিদ্বেষ। ইসলাম কখনো জঙ্গী ধর্ম নয়, একইসঙ্গে ধর্মের নামে কেবল ইসলামেই উগ্রতা আর জঙ্গীবাদ আছে এমন নয়, সব ধর্মেই আছে, তাহলে মুভিতে কেনো ইসলাম আর কালেমার পতাকারই শুধু ব্যবহার?’

‘পরিচালক এই স্পর্ধা কোথায় পেল! নাটক সিনেমায় আগে থেকেই খারাপ চরিত্র, ধর্ষক, বদমাশ দেখাতে দাড়ি টুপি চোখে সুরমা লাগায়। আমাদের নিরবতায় এখন ভিলেন চরিত্রে সরাসরি কালিমা ব্যবহার করার সাহস দেখাচ্ছে। মনে রাখবেন, ইসলামের সাথে জঙ্গীবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃত মুসলিম জঙ্গীতো দূরের কথা ত্রাসের পক্ষেও থাকতে পারে না। কিন্তু কালেমার পতাকাকে জঙ্গীর ট্যাগ লাগিয়ে কারো হাতে ঈমানদাররা তুলেও দিতে পারে না।’

‘সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে ক্রুশবিদ্ধকরণ মুভি বানিয়ে, খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে দায়ী করে দেব ও শোয়ার্জনেগারকে নায়ক বানান। আরেকটা বানান লাখ লাখ মুসলিমকে রাখাইন ও পার্শ্ববর্তী দেশের উগ্রবাদীদের দ্বারা হত্যা যুদ্ধাপরাধ ও বাড়িঘর জালিয়ে দেয়া নিয়ে। সেগুলো এতো নিকটে ঘটলেও চোখে পড়ল না কেনো? ভন্ডামী সব ইসলাম আর সুন্নাতি পোশাক নিয়ে তাইনা! ইচ্ছাকৃত এসব শয়তানী কারবার দ্রুত বন্ধ করুন। নচেৎ এ নিয়ে শান্তির পরিবেশ নষ্ট হলে সিনেমা কর্তৃপক্ষ দায়- দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না।’

মাওলানা আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহর সেই স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে ১৫ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে। পোস্টটির সমর্থনে এর নিচে মন্তব্য জমা পড়েছে কয়েক হাজার। ইতোমধ্যে ৫৭ হাজারের বেশি লাইক জমা পড়েছে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই সাইফুল্লাহর পোস্টের সমর্থন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।