মাচায় টমেটো চাষে কৃষকের মুখে সাফল্যের হাসি

আপডেট: ডিসেম্বর ৩০, ২০২০
0

মোঃ আনোয়ার হোসেন আকুঞ্জী,খুলনা ব্যুরোঃ
জলাবদ্ধতা আর প্রতিকুল পরিবেশের সাথে লড়াই করে ডুমুরিয়ায় বেড়ে চলেছে টমেটো চাষ।

চাহিদা এবং বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় দিন দিন চাষিরা টমেটো চাষে ঝুঁকছে। টমেটো চাষ করে এখানকার কৃষকেরা জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছেন। এ বছর ৮০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের টমেটো চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি দফতর।

উপজেলা কৃষি অফিস ও মাঠ চাষিদের তথ্যমতে; টমেটো একটি উচ্চ মূল্যের ফসল। এক বিঘা জমিতে মাত্র ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৪-৫ মাসে দেড় লক্ষ টাকা লাভ করা যায়। টমেটোর চারার বয়স ২৫ দিন হলে মূল জমিতে লাগানো হয় এবং ২০-২৫ দিন পর তাতে ফুল আসা শুরু করে। রোপনের ৩৫-৪০ দিন পর থেকে ফল পাওয়া যায়। একটি গাছে প্রায় ৩০ টাকা খরচ হয় এবং প্রায় ৫-৬ কেজি টমেটো পাওয়া যায় যার বাজার মূল্য ২০০-২৫০ টাকা। ডুমুরিয়া উপজেলায় এবছর ৮০ হেঃ জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। এখানে মঙ্গল রাজা, লাভলী, মিন্টু সুপার, বারি হাইব্রিড-৪, বারি হাইব্রিড-৮ ইত্যাদি জাতের টমেটোর আবাদ হয়েছে। সার, বীজ, প্রশিক্ষণ এবং মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।
মাচায় টমেটো চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, শ্রাবণ মাসে তিনি জমিতে টমেটোর চারা রোপন করেন। তার ১০ দশক জমিতে টমেটো চাষ করতে বীজ, সার, সেচ, বাঁশ, শ্রমিক বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। চারা রোপনের ৩ মাসে লাভলী জাতের টমেটোর গাছ থেকে পাকা টমেটো উঠতে শুরু করেছে। ক্ষেতে মাচা তৈরি করেছেন। ৩ বছর ধরে মাছের ঘেরের পাড়ে চাষ করছেন। টমেটো চাষের উপর ৩দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাছাড়া কৃষক মাঠ দিবসে কৃষি দফতরের নানা ধরনের পরামর্শ পেয়ে থাকেন। এবার খরচ একটু বেশি হলেও ১ লাখের উপরে বিক্রি করবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোসাদ্দেক হোসেন দেশজনতা’কে বলেন, উপজেলার সবচেয়ে বেশি টমেটোর আবাদ হয়েছে ধামালিয়া, খর্নিয়া এবং গুটুদিয়া ইউনিয়ন। মাচায় টমেটো চাষে গাছ খাড়া থাকে ও জৈব সার ব্যাবহার করায় টমেটোর কোয়ালিটি ভাল হয়। দেশের বড় বড় মার্কেট ও মলগুলোতে মাচায় চাষ করা পাকা টমেটোর চাহিদা বেশী। কৃষকরা দামও ভাল পায়। এতে কৃষকেরা লাভবান বেশী হয়। যারা মাচায় টমেটো চাষ করেছে তাদেও প্রশিক্ষণ এবং ক্ষেত পরির্দশন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিক্রিতে সহজ এবং বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় দিন দিন টমেটোর আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি সম্প্রসারণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।