বিচ্ছিন্নতাবাদ ও পরিণতি

আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৪
0

আরিফুল হক
যদি মুসলমান হন তাহলে হয়তো আল কোরানের এই বাণীটি আপনার পড়া আছে!
‘মুমিনগণ যেন কখনও ইমানদার লোকদের পরিবর্তে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু, পৃষ্ঠপোষক,ও সহযাত্রী রূপে গ্রহণ না করে। যে এইরূপ করিবে আল্লাহর সহিত তাহার কোন সম্পর্ক থাকিবেনা’ সুরা-ইমরান১১৮।
ভাল করে, মন দিয়ে বাক্য কয়টি একাধিক বার পড়ুন। উপলব্ধি করুন আল্লাহ আমাদের কি বলতে চেয়েছেন।
এবার একই সুরার ৯২-৯৩ আয়াতের দিকে দৃষ্টি দিতে অনুরোধ করবো। আল্লাহ বলছেন—
‘হে ইমানদারগণ! নিজ জামায়াতের লোকদের ছাড়া অন্য লোকদের গোপন সাক্ষী বানাইওনা। তাহারা তোমাদের অসুবিধা কালের সুযোগ লইতে একবিন্দু কুণ্ঠিত হয়না। যাহা দ্বারা তোমাদের ক্ষতি হইতে পারে তাহাই তাহাদের নিকট প্রিয় জিনিস’।
এই আয়াতটিও কয়েকবার পড়ুন।
এরপর আল-কোরানের আর একটি সুরার কয়েকটি আয়াতের প্রতি আপনাদের দৃষ্টি দিতে অনুরোধ করে আসল প্রবন্ধে চলে যাব।
আল্লাহতায়ালা সুরা আনফালের ২৬ আয়াতে বলছেন- ‘ স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, যখন তোমরা ছিলে খুবই অল্পসংখ্যক, জমিনে তোমাদেরকে প্রভাব প্রতিপত্তিহীন মনে করা হইত। তোমরা ভয় করিতেছিলে যে লোকেরা তোমাদেরকে না নিশ্চিহ্ন করিয়া দেয়। পরে আল্লাহ তোমাদেরকে আশ্রয়স্থল যোগাড় করিয়া দিলেন, নিজের দেওয়া সাহায্য দ্বারা তোমাদের হাতকে মজবুত করিয়া দিলেন, এবং তোমাদেরকে উত্তম রেজেক দান করিলেন, এই আশায় সম্ভবত তোমরা শোকর জ্ঞাপন কারি হইবে‘।
আলহামদুলিল্লাহ।
যা বলতে চেয়েছিলাম আজকের এই প্রবন্ধে, সেই কথা যেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাঁর কুরানুলকারিমের মাধ্যমে চৌদ্দশতবর্ষ আগেই আমাদের জানিয়ে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু আমরা নাদান বেকুব প্রতিদিন কোরান পড়ি, কিন্তু সেই অমিয়বাণী জীবনের কাজে লাগাতে নিকট অতীতে যেমন ব্যর্থ হয়েছি, আজও তেমনি সেই ব্যর্থতার বোঝা বাড়িয়েই চলেছি।
আজকের প্রবন্ধে বলতে চেয়েছিলাম ভারতের মুসলমানদের মহা উত্থান, এবং পতনের করুন পরিণতির ইতিহাসের কথা, যা আমরা আজও বহন করে চলেছি। অথচ ইতিহাসের আজকের পরিণতির জন্য আল কোরআন বহু আগেই আমাদের সতর্ক করেছিল।
জানিনা আজকের এই প্রবন্ধে পাঠকের মনের বিভ্রান্তি কতটুকু দূর করতে পারব। বলতে চেয়েছিলাম, ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের উত্থান পতনের ইতিহাস নিয়ে কিছু কথা! ভারতের কেরালা রাজ্যের ত্রিশূর জেলায় ৬২৯ এডি তে নির্মিত চেরুমন জুম্মা মসজিদ ভারতবর্ষে ইসলামের প্রাচীনতা সাক্ষ্য বহন করে। এই মসজিদের ইতিহাস থকে জানা যায় যে, চেরা রাজা চেরুমন পেরুমল আরব দেশে গিয়ে হজরত মুহাম্মদ (সঃ) এর সাক্ষাত লাভ করেন, এবং সেখানেই তিনি ইসলামধর্মে দীক্ষা নেন। সেই সূত্রে জানা যায় যে, ইসলামের জন্মলগ্ন থেকেই শুরু হয়েছে ভারতবর্ষের মুসলমানদের ইতিহাস। অতদূরে যাওয়া যাবেনা প্রেক্ষাপট অনেক বড়, লেখার স্থান সংকুচিত! তবু চেষ্টা করি যত সংক্ষিপ্ত ভাবে লেখা যায়।
মুসলমানরা ভারত শাসন করেছে প্রায় ৮৫০ বছর! কিন্তু তারও বহু আগে থেকে তারা এদেশে বসবাস করছে। তারপরও ধর্মান্ধ ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুরা, মুসলমানদের আপন করে নিতে পারেনি। সবসময় সর্বকাজে তারা মুসলমানদের সাথে বৈরীভাব, ঘৃণাভাব প্রকাশ করে এসেছে এটাই ব্রাহ্মণ ধর্মের ইতিহাস।
মোগল সাম্রাজ্য পতনের ইতিহাস, ১৭৭৫ সালে পলাশী যুদ্ধের ইতিহাস, উপমহাদেশে অবস্থিত পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের, ১৯৭১ সালে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ইতিহাস, সবগুলোই এক সূত্রে গাঁথা। যা একবিংশ শতাব্দীর মুসলমানদের অনেক কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করে, অনেক কিছু বলতে চায়। যার ইঙ্গিত প্রবন্ধ শুরুর কোরানের আয়াতের মধ্যেও আমরা দেখেছি। আসুন বাস্তবে তার সত্যতার প্রমাণ দেখা যাক।
বিংশ শতাব্দীর মহান কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শক, হুন, পাঠান, মোগল সকলকে এক দেহে লীন করতে চাইলেন ।সেটি কোন দেহে? তা ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না।
হিন্দু রাজনীতিবিদ পণ্ডিত নেহেরু স্বপ্ন দেখতে লাগলেন, প্রশান্ত মহাসাগর থেকে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত সমস্ত এলাকা একদিন হিন্দুভারতের একচ্ছত্র দখলে চলে আসবে। তখন স্বাধীন রাষ্ট্রসত্বা নিয়ে কোন সংখ্যালঘু জাতি আর টিকে থাকবেনা! এটাই কবিগুরুর সেই ‘একদেহে লীন করার স্বপ্ন!
আর এক নেতা, লোকমান্য তিলক আরও খোলাসা করে বললেন,’ এই উপমহাদেশের মুসলমান অধিবাসীরা হল বিদেশী দখলদার। কাজেই তাদের শারিরীকভাবেই নির্মূল করতে হবে’।
হিন্দুজাতির পিতা গান্ধী বললেন, ‘ভারত বিভাগ মানেই ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা।’ If India leads a blood bath, she shall have it, আমি এক ইঞ্চি পাকিস্তানও সমর্থন করবোনা’।
ইংরেজরা দেশছেড়ে যাবার পূর্বমূহুর্তে, এ হেন বর্ণবাদী হিন্দু সম্প্রদায় যে ভারতের ১০ কোটি মুসলমানকে অধিকার বঞ্চিত দাস করে রাখার পরিকল্পনা করবে, এটা সকল মুসলমান না বুঝলেও একজন নেতা কায়েদে আজম মহম্মদ আলি জিন্না বুঝেছিলেন। তিনি গর্জে উঠে বললেন— ‘গ্রেট ব্রিটেন ভারত শাসন করতে চায়, আর মিঃ গান্ধী ও তার কংগ্রেস মুসলমানদের শাসন করতে চায়। আমরা বলি বৃটিশ অথবা মিঃ গান্ধীকে মুসলমানদের উপর শাসন করতে দেবনা!”
মুসলমানদের চরম অস্তিত্ব সংকটের মুহূর্তে, বর্ণবাদী হিন্দু এবং তাদের সাহায্যকারী ইংরেজদের চরম বাধা, বিরোধিতা, কূটকৌশল, চালাকির মধ্যেও, ভারতের দুই প্রান্তে ”পাকিস্তান” নামে একটা যুক্ত মুসলিমল্যান্ডের অভ্যূদয় হয়েছিল!
কিন্তু বিচ্ছিন্নতাবাদী দুষ্টচক্রটির অপচেষ্টা থেমে থাকলো না। তারা চেষ্টা করতে লাগলো সদ্যজাত মুসলিম দেশটি যাতে কোনমতে টেকসই বা কার্যকর হতে না পারে!
ইতিহাস বলে এই দেশটি বেইমান দেশদ্রোহীদেরও লালন ভূমি। বেইমান মীরজাফর বাংলা তথা ভারতের ৮০০বছরের মুসলমান রাজত্ব বেনিয়া বৃটিশদেরহাতে তুলে দেওয়ার সূত্রপাত করেছিলেন!
মীর সাদিকের বেইমানি, মহীশূর ব্যাঘ্র টিপু সুলতানের পতন এবং মৃত্যু ঘটিয়েছিল।
বেইমান জেনারেল আল-ইদরুস স্বাধীন নিজামশাহী হায়দারাবাদ কে হিন্দুত্ববাদী ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল।
পাকিস্তান কে ধংস করার জন্য ভারতীয় নেতারা এরকমই ‘ঘর শত্রু বিভীষণ ‘ খুঁজতে লাগলেন! পেয়েও গেলেন সহজে!
নেহেরু ফ্যামিলীর অন্নে পালিত গফফার খান, ওয়ালী খান ও তাদের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি সদ্যজাত পাকিস্তানে, পাকতুনিস্তান দাবি তুলে পশ্চিম পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য অস্থিতিশীল করে তুললো!
সিন্ধু প্রদেশকে বিচ্ছিন্ন করে, শিশু পাকিস্তান কে খন্ডবিখন্ড করার পরিকল্পনা নিয়ে জিএম সৈয়দ, তার দলবল নিয়ে “জিয়ে সিন্ধ” আন্দোলন শুরু করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুললো!
ভারতপুষ্ট আরেক নেতা আলতাফ হোসেন, ‘মুত্তাহিদা কওমী মজহাব’, সংক্ষেপে এমকিউএম নামে এক পার্টির নামে, পাকিস্তানের হৃৎপিণ্ড করাচী বন্দরকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বিশৃঙ্খলা শুরু করে দিলেন! ভৌগলিক অসংলগ্নতার কারনে ভারতের এসব চক্রান্ত পশ্চিম পাকিস্তানে বিশেষ সফলতা পায়নি!
তবে পূর্বপাকিস্তানে ভারতের দুষ্ট চক্রান্ত সম্পূর্ণ সফল হল কি ভাবে সে কথাটাই আজ বলি!
বৃটিশ এবং তাদের পোষ্য হিন্দু জমিদারদের দ্বারা বাংলার মানুষই সবচে শোষিত নির্যাতিত হচ্ছিল। মোহাম্মদ আলি জিন্না সেই ১৯৩৮সালেই বলেছিলেন ‘ গান্ধীর উদ্দেশ্য হল এদেশে হিন্দুধর্মের পুনরুভ্যূদয় এবং হিন্দুধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা করা’। বলেছিলেন, ‘কংগ্রেস সমগ্র উপমহাদেশে হিন্দুরাজ্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ‘।
এসব ইতিহাস, এসব আপ্তবাক্য, ভারতের কূটকৌশলী প্রচার মাধ্যম খুব সহজেই পূর্ববাংলার অশিক্ষিত আবেগপ্রবণ মানুষের মন-মগজ থেকে মুছে দিতে সক্ষম হয়েছিল! ফলে জন্মলগ্নেই পূর্বপাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য, ভারতীয় নেতারা মীরজাফর, জগৎশেঠ, দূর্লভ রায়, নন্দকুমার চিনুরায় গংদের মত বেশকিছু দেশহন্তা বিশ্বাসঘাতকে কাজে লাগাতে সক্ষম হল।
১৯৪৭ সালের ৩ জুন মাউন্টব্যটন যখন প্লান ঘোষনা করা হল, তখন ইংরেজরাই পরিহাস করে পূর্ববঙ্গ কে বলতো Rural Slum. অর্থাৎ কদর্য্য গ্রাম। ইঙ্গ-হিন্দু নেতারা দেশভাগের সময় কদর্য গ্রামকেই পূর্বপাকিস্তানের অংশে ঠেলে দিয়েছিল। নদীনালা মাঠ ছাড়া কিছুই ছিলনা দেশটিতে। সবকিছু নতুনকরে গড়তে হচ্ছিল। তার উপর ছিল চরম অর্থ সংকট! চুক্তি মোতাবেক রিজার্ভ ব্যাংক থেকে পাকিস্তানের পাওনা ৫৫কোটি টাকা সেটিও নেহেরু গং ভারতীয় নেতারা পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানালো। সবকিছু মিলিয়ে তখন পূর্বপাকিস্তানের অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি। তার উপর কলকাতা থেকে অপশন দিয়ে চলে আসা সরকারি কর্মচারিদের বাসকরার জন্য জরুরি ভিত্তিতে পলাশী ব্যারাক ও নীলক্ষেত ব্যরাক নির্মাণের কাজে সরকারকে হাতে নিতে হল। স্বাভাবিক কারনেই সেখানে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের কাজ কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছিল।
ভারতের কেনা দালাল রাজনীতিবিদরা এই ইস্যুটিকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কাজে লাগালেন। তারা ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে, অর্থাৎ পাকিস্তান জন্মের ২ মাসের মধ্যেই নীলক্ষেত ব্যারাকবাসী নিম্নবেতনভূক কর্মচারীদের উত্তেজিত করে, লোটা বদনা মিছিল নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের বাসভবন ঘেরাও করে দেশে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করলেন।
জিন্না সাহেবের সকলজাতি একত্রে বসবাস করার অসাম্প্রদায়ীক নীতির সুযোগ নিয়ে, কলকাতার ব্রাহ্মণ্যবাদী নেতারা, পাকিস্তান বিদ্বেষকে মূলধন করে শ্রেনীসংগ্রামের ভাঁওতা দিয়ে ১৯৪৭ সালেই এদেশে গড়ে তুললেন ‘ পাকিস্তান কম্যুনিষ্ট পার্টি।
১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই, ভারতীয় কমরেড ভবানী সেন এদেশে আসেন এবং কোন বাধা ছাড়াই সদরঘাট করোনেশনপার্কের এক জনসভায় ভাষন দেন!
ভারতের হায়দারাবাদ নিবাসী কমরেড সাজ্জাদ জহিরকে সম্পাদক করে গড়েতোলা হল ‘পাকিস্তান কমিউনিষ্ট পার্টি’। সঙ্গে যোগ দিলেন, কমরেড মনি সিং, ইলা মিত্র, সিলেটের সুব্রত পাল, কমরেড মুজাফফর আহমদ প্রমুখ।
এইসব কমরেডদের উদ্দেশ্যই ছিল, পূর্বপাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র অভ্যূত্থান ঘটানোর চেষ্টা করা।
উক্ত সাজ্জাদ জহির সেই সময় সেনাবাহিনীর উচ্চাভিলাষী মেজরজেনারেল আকবর খানের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যূত্থান ঘটানোর ও চেষ্টা করেন।
কমরেড ইলা মিত্র ও তার স্বামী রমেন মিত্র( রাজশাহী অঞ্চলের জমিদার) উত্তর বঙ্গের সাঁওতাল দের সংগঠিত করে ‘তেভাগা আন্দোলনের’ নামে, তীর, লাঠি, সড়কি, বল্লম প্রভৃতি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে, সমগ্র উত্তরবঙ্গ জুড়ে সশস্ত্র বিপ্লব শুরু করে দেন। পুলিশ হত্যা, থানায় -আগুন, লুটপাট, মানুষ খুন প্রভৃতি বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে পূর্বপাকিস্তানের সমগ্র উত্তরাঞ্চল কে অগ্নিগর্ভ করে তোলা হল। পাকিস্তান সরকারকে সেনা অভিযান চালিয়ে সেই বিদ্রোহ দমন করতে হয়েছিল।
পঞ্চাশদশকের দিকে পশ্চিমবঙ্গে, কমঃ ইলা মিত্রের সাথে লেখকের কিছুদিন কাজ করার সুযোগ হয়। সেই সুবাদে তার মুখ থেকেই নাচোল বিদ্রোহের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা সম্পর্কে বেশকিছু তথ্য আমার জানার সুযোগ হয় !
এরপরওপূর্ব পাকিস্তান, ১৯৪৭ -৭১ পর্যন্ত, ২৫ বছর ধরে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে প্রতিবাদ, মিছিল, প্রতিরোধ, আন্দোলন, সংগ্রাম, আইন অমান্যের মত বিশৃঙ্খলার বন্যায় ভেসেছে! দুঃখের বিষয়, সেইসব সংগ্রামের বন্যাই দেশটাকে ভারত আরাধ্য বিচ্ছিন্নতার পথে এগিয়ে দিয়েছে।
১৯৪৮ সালে ভাষাআন্দোলনের সূচনা। ৫২র চুড়ান্ত ভাষা আন্দোলন। ৫৪ যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন। ৫৮সালে সংসদের ভিতর ডেপুটি স্পীকার শাহেদ আলিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা। ‘৬৫র পাক-ভারত যুদ্ধ ।’৬৬ সালে আওয়ামী লীগের ৬দফার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। ৬৯ এর গণ বিদ্রোহ, ‘৭০ এর নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামীলীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, তারপর শেখ মুজিব ভুট্টোর ক্ষমতায় বসা নিয়ে দ্বন্দ, দেশ অচল করা, ৭১এর গণ-অরাজকতা, আর্মিক্রাকডাউন, মুক্তিযুদ্ধ নামক গৃহযুদ্ধ, অবশেষে ভারতের আর্মির সহায়তায় পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন করে ধ্বংসস্তুপের উপর দূর্বল, ভারতনির্ভর বাংলাদেশ গঠন! এই হল আমাদের স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। একটি সবল রাষ্ট্রের দূর্বল হয়ে যাওয়ার ইতিহাস। বিচ্ছিন্নতাবাদ ও তার পরিণতির ইতিহাস।
আজ ২০২৪ সালের বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে হিসাব মিলাতে গিয়ে যখন দেখি হিন্দুত্ববাদী ভারতের বুকে মুসলিম অধ্যুষিত খন্ডিত বিগত পশ্চিমপাকিস্তান, পেটে পাথর বেঁধে পরমানু শক্তির অধিকারি হয়ে আগ্রাসী ভারতের আধিপত্য রুখে দিয়ে সগর্বে, স্বসম্মানে দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু আজও উপলদ্ধি করতে পারেনি বিচ্ছিন্নতার পরিণতি ।
অপরদিকে পূর্ব পাকিস্তান যা আজকের বাংলাদেশ নামে পরিচিত, সেই দেশের ১৮ কোটি মুসলমান আজও বুঝে উঠতে পারেনাই, এত লড়াই, এত সংগ্রাম, এত আন্দোলন, এত লোকক্ষয় করতে হয়েছিল কেন? কার স্বার্থে? এত বিশাল জান মাল ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে দেশেরমানুষ কি অর্জন করলো? অর্জন করেছে হিন্দুত্ববাদের দাসত্ব! হিন্দুত্ববাদী ভারতের করদ রাজ্য হিসাবে বেঁচে থাকা! পরবশ্য দাসের মত, জোড়হস্ত হয়ে, ধুঁকেধুঁকে বেঁচে থাকার মত নামকাওয়াস্তে “ স্বাধীনতার পতাকা”?
পঞ্চাশ বছর পার হয়ে গেল ১৬কোটি মানুষ কোরান পড়ছে, পড়াচ্ছে, শিকায় যত্ন করে তুলে রাখছে, কিন্ত আল্লাহর বানী ,-
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوۡا بِطَانَۃً مِّنۡ دُوۡنِکُمۡ لَا یَاۡلُوۡنَکُمۡ خَبَالًا ؕ وَدُّوۡا مَا عَنِتُّمۡ ۚ قَدۡ بَدَتِ الۡبَغۡضَآءُ مِنۡ اَفۡوَاہِہِمۡ ۚۖ وَمَا تُخۡفِیۡ صُدُوۡرُہُمۡ اَکۡبَرُ ؕ قَدۡ بَیَّنَّا لَکُمُ الۡاٰیٰتِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ
অর্থাৎ “ হে মুমিনগণ তোমরা কখনো ইমানদার লোকদের পরিবর্তে কাফেরদেরকে নিজের বন্ধু, পৃষ্ঠপোষক বা সহযাত্রী রূপে গ্রহন করিওনা। যে এরূপ করিবে আল্লাহর সহিত তাহার কোন সম্পর্ক থাকিবেনা!’
আল কোরানের এই একটি মাত্র আয়াতের মর্ম্মার্থ তারা আজও উপলব্ধি করতে পারলনা।. দৈনিক আমার দেশ অনলাইন থেকে নেয়া।