জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র পায়তারা করছে — মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া

আপডেট: মে ৮, ২০২৩
0

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য স্বাধীনতা বিরোধী একটি চক্র পঁায়তারা করছে। তারা বলছে বাংলাদেশে নির্বাচন করবে না এবং কাউকে নির্বাচন করতেও দিবে না। এটা যে কত বড় অপরাধ। স্বাধীন বাংলাদেশে তারা কিভাবে বলে নির্বাচন করতে দিবে না। আমাদের মূল লক্ষ্য সারা বাংলাদেশে যে কোন জায়গায় নির্বাচন আসবে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে যারা নৌকা নিয়ে আসবেন আমরা নৌকার পক্ষে কাজ করবো। গাজীপুরে আগামি ২৫ মে নির্বাচনে জয়লাভ করতেই হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি রবিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরের ৩৯নং ওয়ার্ডের হায়দরাবাদে শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টারের ১৯ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গাজীপুরে নির্বাচন নিয়ে অনেক খেলা শুরু হয়েছে। নির্বাচন বানচাল করার জন্য ইতোমধ্যে পাঁয়তারা চলছে। আমরা আইনশৃংখলা আর আচরণবিধি মেনে নির্বাচন কার্যক্রম চালাচ্ছি। আমাদের নেতা-কর্মীদের কাছে অনুরোধ থাকবে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে আমরা সবাই কাজ করবো। তিনি আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফঁাসির রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।

সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেছেন, আমার বাবা আহসান উল্লাহ মাস্টারের হত্যা মামলার আসামীদের দ্রুততম সময়ে ফঁাসি কার্যকর করার প্রত্যাশা করছি। পাশাপাশি তঁার হত্যাকান্ডের যারা মাস্টার মাইন্ড তাদেরকেও বিচারের আওতায় এনে দ্রুততম সময়ে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের খুনীদের দ্রুততম সময়ে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, সেটাই আমি প্রত্যাশা করি।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টারের ছেলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল এমপির সভাপতিত্বে সমাধিস্থলে আয়েজিত স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, এসএম কামাল হোসেন, মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, সাবেক এমপি আখতারউজ্জামান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমতউল্লা খান এবং সাধারণ সম্পাদক আতাউল্যাহ মন্ডল প্রমুখ।

জনপ্রিয় নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগঁাও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ চলাকালে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হন। ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার আইনে আহসান উল্লাহ মাষ্টার এমপি হত্যা মামলার রায় দেয়া হয়। ওই রায়ে ৩০ জন আসামির মধ্যে প্রধান আসামি বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে ফঁাসি ও ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ২জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

এদিকে সকালে আওয়ামী লীগ ও শ্রমজীবি মানুষের নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টারের ১৯তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের জ্যেষ্ঠ পুত্র যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ গিয়াসউদ্দীন মিয়া, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. হাবিবুর রহমান সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণের শিক্ষকসহ মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠাণের কর্মকর্তা কর্মচারী এবং গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।

দিবসটি উপলক্ষ্যে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত ও দিনব্যাপী কোরানখানির আয়োজন করা হয়। এছাড়াও রবিবার দিনব্যাপী ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প, অসহায়-গরীবদের ও এতিমখানায় খাবার বিতরণ, দিনব্যাপী আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। মৃত্যুদিবস উপলক্ষ্যে গাজীপুরে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজীপুর-২ (গাজীপুর সদর-টঙ্গী) আসন হতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দু’বার সংসদ সদস্য, ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৩ ও ১৯৮৭ সালে দু’দফা পূবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন আহসান উল্লাহ মাষ্টার। তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সস্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৫০ সালের ৯ নবেম্বর তিনি গাজীপুরের হায়দরাবাদ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন আহসান উল্লাহ মাষ্টার। ছাত্র জীবন থেকে তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন। ৬২’র শিক্ষা কমিশন আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন ও ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের পাশাপাশি সক্রিয় কর্মী হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক ছিলেন। আহসান উল্লাহ মাষ্টার শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বহুবিধ গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন, তিনি ছিলেন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক, নির্বিরোধ, সহজ- সরল ও মিশুক একজন মানুষ।

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর।
০৭/০৫/২০২৩ইং