সেন্টমার্টিনে ৬২ কেজি ওজনের কোরাল

আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২১
0
ছবি সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট:
সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটে মৎস্যজীবীর বড়শিতে ধরা পড়েছে সাড়ে ৬২ কেজি ওজনের ভোল কোরাল। পরে মাছটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ডেইলপাড়া পাথুরে সৈকত-সংলগ্ন সমুদ্রে মাছ শিকারী আবদুর রহমানের বড়শিতে মাছটি উঠে আসে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবিব খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ডেইলপাড়ার বাসিন্দা মৃত আলী আহমদের ছেলে আবদুর রহমানের বড়শিতে মাছটি ধরা পড়ে। তিনি মাছটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। দ্বীপে মাছটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় কেটে মাছটি ৫০ ভাগ করে স্থানীয়রা নেন।

মাছ শিকারী আবদুর রহমান বলেন, ‘দুপুরের দিকে সেন্টমার্টিন প্রাসাদ প্যারাডাইস পয়েন্টে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করছিলাম। এ সময় কয়েক দফা চেষ্টা করে একটি মাছও ধরতে পারিনি। হতাশ হয়ে ফিরে আসারর আগে শেষবারের মতো লইট্টা মাছের একটি টুকরা দিয়ে ওই পয়েন্ট বড়শি ফেললে বিকেলের দিকে মাছটি ধরা পড়ে। সাগর থেকে বড় মাছটি ওঠাতে অনেকে আমাকে সহযোগিতা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মাছটি সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে নেয়া হয়। ওই সময় মাছটি দেখতে লোকজন ভিড় করেন। মাছের ওজন সাড়ে ৬২ কেজি। মাছটি বিক্রি করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথের সার্ভিস ট্রলারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলম মাছটি কিনে নিয়ে ৫০ ভাগ করে বণ্টন করেন। এতে এক হাজার টাকায় প্রতি ভাগে সাড়ে ১২ শ’ গ্রাম করে পড়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়নের সদস্য হাবিব খান জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে একই জেটিঘাট থেকে এই ধরনের ভোল কোরাল মরহুম ছালামত উল্লাহ বড়শিতে ধরা পড়েছিল। যার ওজন ছিল ১৬০ কেজি। এরপর দ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক সদস্য বশির আহমেদের বড়শিতে ধরা পড়েছিল ২০৭ কেজি ওজনের ভোল কোরাল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের এক জেলের বড়শিতে সাড়ে ৬২ কেজি ওজনের একটি বিশাল ভোল কোরাল মাছ ধরার খবর শুনেছি। সাধারণত এখানে এত বড় মাছ ধরা পড়ে না। তবে শীত মৌসুমে পাঁচ থেকে ১৫ কেজি ওজন পর্যন্ত ভোল কোরাল মাছ জেলেদের জালে আটকা পড়ে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞ আতিকুর রহমান মানিক বলেন, ভোল কোরাল মাছের পেটে এয়ার ব্লাডার (ফদনা) থাকে না। একই আকৃতির লাল পোপা মাছ হলে মূল্যবান এয়ার ব্লাডার (ফদনা) বিক্রি করেই পাঁচ-ছয় লাখ টাকা পাওয়া যেত।